চট্টগ্রামে পহেলা বৈশাখের মঞ্চ ভাঙচুর, আটক ৬

বাংলাদেশ রিপোর্ট ডেস্ক

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের ডিসি হিলে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্য নির্মিত মঞ্চ, প্যান্ডেল, চেয়ার ও ব্যানারসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করেছে একদল যুবক। ঘটনার পর ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। ঘটনার পর চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক কর্মীরা প্রতিবাদস্বরূপ সোমবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আলমগীর হোসেন জানান, ছয়জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪০-৫০ জনের একটি দল সন্ধ্যায় মিছিল নিয়ে এসে মঞ্চ, চেয়ার-টেবিলসহ অনুষ্ঠানস্থলের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। তারা স্লোগান দেয়, “শেখ হাসিনার ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত ডিসি হিলে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান হতে দেওয়া হবে না।”

সম্মিলিত পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপন পরিষদ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি চলতি বছর ৪৭ বছরে পড়েছে। কিন্তু এবার তারা অনুষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। পরিষদের অভিযোগ, প্রশাসনের গড়িমসি ও অসহযোগিতার কারণেই এই ধরণের হামলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ভাঙচুরের আগে বিকেলে জেলা প্রশাসন আয়োজকদের হাতে ২০টি সংগঠনের একটি তালিকা দেয়, যাদের মঞ্চে না তোলার নির্দেশ ছিল। এই সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ অভিযোগ তোলে একটি পক্ষ, যারা সকালে মানববন্ধন করে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দেয়।

আয়োজকদের দাবি, ওই মানববন্ধনের আয়োজকরাই সন্ধ্যায় এসে ভাঙচুর চালিয়েছে। পরিষদের সদস্যসচিব মোহাম্মদ আলী জানান, হামলাকারীরা বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও অংশ নিয়েছিল।

কোতোয়ালি থানার ওসি আবদুল করিম জানান, হঠাৎ একটি মিছিল এসে দ্রুত ভাঙচুর করে চলে যায়। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

পরিষদের সমন্বয়ক সুচরিত দাশ বলেন, “এভাবে অনুষ্ঠান করা যায় না। প্রশাসন বরাবরই অসহযোগিতা করেছে। তাই এবার আমরা পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান করব না।”

অন্যদিকে, ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে জাসাসের সদস্যসচিব ও নববর্ষ উদ্‌যাপন মঞ্চের সংগঠক মামুনুর রশিদ (শিপন) বলেন, “আমরা শুধু মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছি। ভাঙচুরের বিষয়ে কিছু জানি না।”

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

চট্টগ্রামে পহেলা বৈশাখের মঞ্চ ভাঙচুর, আটক ৬

বাংলাদেশ রিপোর্ট ডেস্ক

প্রকাশ :

সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের ডিসি হিলে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্য নির্মিত মঞ্চ, প্যান্ডেল, চেয়ার ও ব্যানারসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করেছে একদল যুবক। ঘটনার পর ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। ঘটনার পর চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক কর্মীরা প্রতিবাদস্বরূপ সোমবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মো. আলমগীর হোসেন জানান, ছয়জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪০-৫০ জনের একটি দল সন্ধ্যায় মিছিল নিয়ে এসে মঞ্চ, চেয়ার-টেবিলসহ অনুষ্ঠানস্থলের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। তারা স্লোগান দেয়, “শেখ হাসিনার ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত ডিসি হিলে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান হতে দেওয়া হবে না।”

সম্মিলিত পয়লা বৈশাখ উদ্‌যাপন পরিষদ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি চলতি বছর ৪৭ বছরে পড়েছে। কিন্তু এবার তারা অনুষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। পরিষদের অভিযোগ, প্রশাসনের গড়িমসি ও অসহযোগিতার কারণেই এই ধরণের হামলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ভাঙচুরের আগে বিকেলে জেলা প্রশাসন আয়োজকদের হাতে ২০টি সংগঠনের একটি তালিকা দেয়, যাদের মঞ্চে না তোলার নির্দেশ ছিল। এই সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ অভিযোগ তোলে একটি পক্ষ, যারা সকালে মানববন্ধন করে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দেয়।

আয়োজকদের দাবি, ওই মানববন্ধনের আয়োজকরাই সন্ধ্যায় এসে ভাঙচুর চালিয়েছে। পরিষদের সদস্যসচিব মোহাম্মদ আলী জানান, হামলাকারীরা বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও অংশ নিয়েছিল।

কোতোয়ালি থানার ওসি আবদুল করিম জানান, হঠাৎ একটি মিছিল এসে দ্রুত ভাঙচুর করে চলে যায়। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

পরিষদের সমন্বয়ক সুচরিত দাশ বলেন, “এভাবে অনুষ্ঠান করা যায় না। প্রশাসন বরাবরই অসহযোগিতা করেছে। তাই এবার আমরা পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান করব না।”

অন্যদিকে, ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে জাসাসের সদস্যসচিব ও নববর্ষ উদ্‌যাপন মঞ্চের সংগঠক মামুনুর রশিদ (শিপন) বলেন, “আমরা শুধু মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছি। ভাঙচুরের বিষয়ে কিছু জানি না।”