সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন ও হুমকি

প্রকাশ :

ছবি: প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

দীর্ঘ আটাশ বছর আগের দখল ফেরাতে জামালপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেছেন সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হক। দলীয় নেতা-কর্মীদের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সেই আগ্নেয়াস্ত্র পরিদর্শনের দুইটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সাবেক মন্ত্রীর বড় ছেলেকে মারধর করেছে বলে দাবি সাবেক ওই মন্ত্রীর।

বৃহস্পতিবার (০৩ এপ্রিল) সকালে সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রীর আগ্নেয়াস্ত্র পরিদর্শনের ভিডিও ক্লিপ দুটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ছড়িয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার (০১ এপ্রিল) রাতে ঘটনাটি ঘটে। সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হক কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

১মিনিট ১৩ সেকেন্ড এবং ২০ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ দেখা যায়, জামালপুর পৌর শহরের শফির মিয়ার বাজার এলাকায় জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অনেক মানুষের সমাগম। সেখানে সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হককে উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। তাঁর ডান হাতে একটি পিস্তল। তিনি পিস্তলটি বারবার উপরদিকে প্রদর্শন করছেন।

এ সময় তাকে বলতে শুনা যায়, আমার ফাঁসি হলে হবে। আমি ফাঁসি মেনে নেবো। তাও গাদ্দারকে মেরে ফেলবো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে সিরাজুল হক তাঁর একদল অনুসারী নিয়ে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেন এবং দলীয় নেতাদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

ঘটনার পরপরই বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এ ঘটনাকে ‘দলের ঐক্যের ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ওই দিনের ঘটনার বিষয়ে সিরাজুল হক বলেন, ঘরটা বাবা আমার ছেলেকে দিছে। ২৮ বছর যাবৎ ঘরটা নিয়ে অফিস দিছে। ২৮ বছরে ভাড়া হয়ছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। বিষয়টা নিয়ে আমার ছেলে গেছে কথা বলতে। আমার ছেলে বলছে ঘরটা ছেড়ে দেন। আমার ছেলেকে মামুনের ভাই রেদুয়ান, ভাগ্নে রুমেল মারছে। আমারে ফোন করছে। আমার ছেলেরে তো আমি কোনদিন চড়ও দেয়নি। আমার লাইসেন্সধারী রিভলবারটা তো গর্ভমেন্ট আমার সিকিউরিটির জন্য দিয়েছে। আমি আমার নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র নিয়ে গেছি। আমি খালি হাতে যাব কেন? আগামী মঙ্গলবার ঘর ছেড়ে দিবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

গাদ্দারের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই গাদ্দার হয়ছে, আমার পিএ ছিলো লোটন। লোটন আমার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। ওর ধমনীতে, পা থেকে মাথা পর্যন্ত শরীরের রক্ত, শিরাগুলো আমার টাকা-পয়সায়। আমার টাকা-পয়সায় চলেছে। আমার সাথে থেকে টাকা-পয়সা বানায়ছে। অথচ ওর সামনে আমার ছেলেকে মারছে সে কোন প্রতিবাদ করে নাই।

জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ্ মো.ওয়ারেছ আলী মামুনের ভাই আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ান জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া লোকমান আহাম্মেদ খান লোটন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে পালন করছেন।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি উত্তেজিত কন্ঠে বলেন, এটা আমাদের পারিবারিক বিষয়। এ বিষয়ে কোন বক্তব্য নেই।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন মোবাইল ফোনে বলেন, অফিসের ঘরটা তাঁর। এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। তিনি ঘর ছেড়ে নিবেন এটা তিনি বলতেই পারেন। তবে তিনি যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছেন সেটা সঠিক হয়নি।

জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম মোবাইল ফোনে বলেন, ওই জায়গায় সিরাজ ভাইয়ের নেতৃত্বেই পার্টি অফিস করা হয়েছে। জোড়পূর্বক দখল করার কোন সুযোগ নেই। তিনি আমাদের বড় ভাই। তিনি আমাদের অভিভাবক তার বিরুদ্ধে আমার কোন মন্তব্য নেই।

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রীর অস্ত্র প্রদর্শন ও হুমকি

প্রকাশ :

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

দীর্ঘ আটাশ বছর আগের দখল ফেরাতে জামালপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেছেন সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হক। দলীয় নেতা-কর্মীদের হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সেই আগ্নেয়াস্ত্র পরিদর্শনের দুইটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সাবেক মন্ত্রীর বড় ছেলেকে মারধর করেছে বলে দাবি সাবেক ওই মন্ত্রীর।

বৃহস্পতিবার (০৩ এপ্রিল) সকালে সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রীর আগ্নেয়াস্ত্র পরিদর্শনের ভিডিও ক্লিপ দুটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ছড়িয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার (০১ এপ্রিল) রাতে ঘটনাটি ঘটে। সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হক কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

১মিনিট ১৩ সেকেন্ড এবং ২০ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ দেখা যায়, জামালপুর পৌর শহরের শফির মিয়ার বাজার এলাকায় জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে অনেক মানুষের সমাগম। সেখানে সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী সিরাজুল হককে উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। তাঁর ডান হাতে একটি পিস্তল। তিনি পিস্তলটি বারবার উপরদিকে প্রদর্শন করছেন।

এ সময় তাকে বলতে শুনা যায়, আমার ফাঁসি হলে হবে। আমি ফাঁসি মেনে নেবো। তাও গাদ্দারকে মেরে ফেলবো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে সিরাজুল হক তাঁর একদল অনুসারী নিয়ে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেন এবং দলীয় নেতাদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

ঘটনার পরপরই বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এ ঘটনাকে ‘দলের ঐক্যের ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ওই দিনের ঘটনার বিষয়ে সিরাজুল হক বলেন, ঘরটা বাবা আমার ছেলেকে দিছে। ২৮ বছর যাবৎ ঘরটা নিয়ে অফিস দিছে। ২৮ বছরে ভাড়া হয়ছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। বিষয়টা নিয়ে আমার ছেলে গেছে কথা বলতে। আমার ছেলে বলছে ঘরটা ছেড়ে দেন। আমার ছেলেকে মামুনের ভাই রেদুয়ান, ভাগ্নে রুমেল মারছে। আমারে ফোন করছে। আমার ছেলেরে তো আমি কোনদিন চড়ও দেয়নি। আমার লাইসেন্সধারী রিভলবারটা তো গর্ভমেন্ট আমার সিকিউরিটির জন্য দিয়েছে। আমি আমার নিরাপত্তার জন্য অস্ত্র নিয়ে গেছি। আমি খালি হাতে যাব কেন? আগামী মঙ্গলবার ঘর ছেড়ে দিবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

গাদ্দারের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই গাদ্দার হয়ছে, আমার পিএ ছিলো লোটন। লোটন আমার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। ওর ধমনীতে, পা থেকে মাথা পর্যন্ত শরীরের রক্ত, শিরাগুলো আমার টাকা-পয়সায়। আমার টাকা-পয়সায় চলেছে। আমার সাথে থেকে টাকা-পয়সা বানায়ছে। অথচ ওর সামনে আমার ছেলেকে মারছে সে কোন প্রতিবাদ করে নাই।

জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ্ মো.ওয়ারেছ আলী মামুনের ভাই আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ান জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেল জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া লোকমান আহাম্মেদ খান লোটন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে পালন করছেন।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি উত্তেজিত কন্ঠে বলেন, এটা আমাদের পারিবারিক বিষয়। এ বিষয়ে কোন বক্তব্য নেই।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন মোবাইল ফোনে বলেন, অফিসের ঘরটা তাঁর। এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। তিনি ঘর ছেড়ে নিবেন এটা তিনি বলতেই পারেন। তবে তিনি যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছেন সেটা সঠিক হয়নি।

জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম মোবাইল ফোনে বলেন, ওই জায়গায় সিরাজ ভাইয়ের নেতৃত্বেই পার্টি অফিস করা হয়েছে। জোড়পূর্বক দখল করার কোন সুযোগ নেই। তিনি আমাদের বড় ভাই। তিনি আমাদের অভিভাবক তার বিরুদ্ধে আমার কোন মন্তব্য নেই।