বাংলাদেশ ক্রিকেটে লিটন দাসের ব্যাটিং মানেই চোখের আরাম। কিন্তু জাতীয় দলে যে প্রত্যাশা নিয়ে তার আবির্ভাব, সেটি পূরণ করা সম্ভব হয়নি। ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময়ই তাকে লড়াই করতে হয়েছে ফর্মের ওঠানামার সঙ্গে। তবে ভালো সময়ের পুরস্কার হিসেবে একসময় সুযোগ আসে আইপিএলে খেলার—যা শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় তিক্ত অভিজ্ঞতায়।
ভারতের বিপক্ষে লিটনের পারফরম্যান্স বরাবরই ছিল নজরকাড়া। বিশেষ করে ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ২৭ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংসটি ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের নজর কাড়ে। এর পরের বছর, ২০২৩ সালের আইপিএল আসরে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাকে দলে নেয়। কিন্তু অভিষেক ম্যাচেই ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পাশাপাশি গ্লাভস হাতে দুটি সহজ সুযোগ ফসকান তিনি। সেটাই হয়ে ওঠে তার প্রথম ও শেষ আইপিএল ম্যাচ।
এক সাক্ষাৎকারে লিটন বলেন, “আমার মনে হয় ওটাই আমার সবচেয়ে খারাপ দিন ছিল—ব্যাটিং হোক বা কিপিং। দুর্ভাগ্যই বলতে হয়, কারণ মানুষ সাধারণত একটা সেকেন্ড চান্স পায়, আমি সেটা পাইনি। হয়তো আমার প্রথম ইম্প্রেশনটাই খারাপ ছিল।”
আইপিএলের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “এটা বড় একটা টুর্নামেন্ট, যেখানে বিশাল তারকাদের সঙ্গে খেলতে হয়, বিপুল সংখ্যক দর্শক থাকে—এসব মিলেই একজন ক্রিকেটারের গেম সেন্স তৈরি হয়। আমাদের কাছে বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বড় ইভেন্ট হলেও আইপিএলকেও সেই তালিকায় রাখতে হবে।”
আইপিএলে কাটানো সময় থেকে পাওয়া উপলব্ধি সম্পর্কে লিটন বলেন, “যেটুকু সময় আমি ওখানে ছিলাম, তাতেই বুঝেছি আমাদের ক্রিকেট কতটা পিছিয়ে। অনেক মানে সত্যিই অনেক পিছিয়ে।”
আরও যোগ করে তিনি বলেন, “আমি যখন আইপিএলের সময় গাড়িতে উঠলাম, আমার মনে হচ্ছিল—এই তো সেই অনুভূতি, যেটা বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলতে গেলে হয়। অথচ এটা তো একটা ডমেস্টিক লিগ! এত সুযোগ-সুবিধা যদি এখানে থাকে, তাহলে জাতীয় দলে খেলার সময় কী পরিস্থিতি হয়, ভাবাই যায় না।”






