একই ব্যক্তি দলীয় প্রধান ও সরকার প্রধান হতে পারবেন না—সংস্কার প্রস্তাবের এধরনের ধারণার সঙ্গে একমত নয় বিএনপি। দলটি মনে করে, একজন নেতা একইসঙ্গে রাজনৈতিক দল ও সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে কোনো অসুবিধা নেই।
রোববার (২০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক শুরু হয়। দুপুর ২টায় মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে বেরিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, বিএনপি সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায়। এ প্রেক্ষিতে তারা প্রস্তাব দিয়েছেন, সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখা হোক এবং মূলনীতি থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি বাদ দেওয়া হোক।
তবে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার—এগুলোকে সংবিধানে যুক্ত করার। এ বিষয়ে বিএনপি একমত হয়েছে।
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আরও বলেন, আগামীতে সরকার গঠন করলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
তিনি জানান, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে আস্থা বিল, অর্থ বিল, সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে এমপিদের স্বাধীনভাবে ভোটদানের সুযোগ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।
সংবিধানে ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে যুক্ত করার ব্যাপারেও বিএনপি একমত বলে জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রের বাস্তব সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
সরকার ও দলীয় প্রধান একই হলে সমস্যা কোথায়?
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “একই ব্যক্তি দলীয় প্রধান ও সরকার প্রধান হতে পারবেন না—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা আমরা কোথাও দেখি না। যুক্তরাজ্যসহ অনেক গণতান্ত্রিক দেশেই পার্টি প্রধানই সরকার প্রধান হন। যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয় এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়, তাহলে জনগণের দেওয়া রায় অনুযায়ী যে দল ক্ষমতায় আসবে, তাকে নেতৃত্ব দেওয়ার অধিকার রয়েছে।”
সংস্কার নিয়ে অনেক বিষয়ে কাছাকাছি মত
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “সংস্কার নিয়ে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আমাদের অনেক বিষয়ে মতৈক্য হয়েছে। আবার কিছু বিষয়ে মতানৈক্যও রয়েছে, যা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। আমরা একদলীয় শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাস করি না, যেখানে সবাইকে একই মত পোষণ করতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “দেশ ও জনগণের কল্যাণে যা যৌক্তিক ও উপযুক্ত, সেটিই হওয়া উচিত।”






