ইরানে ভয়াবহ টার্গেটেড বিমান হামলা ইসরায়েলের

বাংলাদেশ রিপোর্ট ডেস্ক

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

তেহরান ও তার আশপাশে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর ভোররাতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আগেই রেকর্ড করা এক ভিডিও বার্তায় এই হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন।

নেতানিয়াহুর ঘোষণা: ‘অভিযান চলবে’
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ভিডিও বার্তায় জানান, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো। তার ভাষায়, “ইসরায়েলের অস্তিত্ব রক্ষা করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যতক্ষণ না এই হুমকি সম্পূর্ণভাবে দূর হচ্ছে, ততক্ষণ আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

‘নেশন অব লায়ন্স’: ভয়াল মিশন
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ‘নেশন অব লায়ন্স’ নামে একটি বিমান অভিযানের মাধ্যমে ইরানের একাধিক পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। টাইমস অব ইসরায়েলের বরাতে জানা গেছে, ইরান থেকে আসা “তাৎক্ষণিক হুমকি” প্রতিহত করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, তারা ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানের হাতে যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, তাতে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ১৫টি পারমাণবিক বোমা তৈরি সম্ভব।

তেহরানে জোরালো বিস্ফোরণ, ফ্লাইট বন্ধ: ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ জানিয়েছে, তেহরান শহর ও আশপাশে একাধিক জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

বিপুল হতাহতের আশঙ্কা: ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি হামলায় “অনেক হতাহতের” কথা বললেও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, ইরানি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফসহ কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের বক্তব্য- প্রতিরোধমূলক হামলা: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, “ইরান থেকে আসন্ন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি ছিল একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।”
দেশজুড়ে সাইরেন বাজিয়ে জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে। ভোর ৩টা থেকে সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করে “জরুরি কার্যক্রম ছাড়া সবকিছু বন্ধ রাখার” নির্দেশনা জারি করা হয়।

মার্কিন প্রতিক্রিয়া- ‘আমরা জড়িত নই’: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবে জড়িত নয়। তার ভাষায়, “মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে হামলা হলে তার প্রতিক্রিয়া হবে ভয়াবহ।”

ইরানের হুঁশিয়ারি ছিল আগেই: হামলার মাত্র দুই দিন আগেই ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ বলেছিলেন, “যদি পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে পড়ে এবং যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে আমাদের লক্ষ্য হবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি।”

পরিস্থিতি থমথমে, উত্তেজনা তুঙ্গে: ইরানজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও জনসমাগম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলও সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে এই হামলার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে পরিস্থিতি এগিয়ে যাচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এক চরম হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

ইরানে ভয়াবহ টার্গেটেড বিমান হামলা ইসরায়েলের

বাংলাদেশ রিপোর্ট ডেস্ক

প্রকাশ :

সংগৃহীত

তেহরান ও তার আশপাশে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর ভোররাতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আগেই রেকর্ড করা এক ভিডিও বার্তায় এই হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন।

নেতানিয়াহুর ঘোষণা: ‘অভিযান চলবে’
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ভিডিও বার্তায় জানান, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো। তার ভাষায়, “ইসরায়েলের অস্তিত্ব রক্ষা করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যতক্ষণ না এই হুমকি সম্পূর্ণভাবে দূর হচ্ছে, ততক্ষণ আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

‘নেশন অব লায়ন্স’: ভয়াল মিশন
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ‘নেশন অব লায়ন্স’ নামে একটি বিমান অভিযানের মাধ্যমে ইরানের একাধিক পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। টাইমস অব ইসরায়েলের বরাতে জানা গেছে, ইরান থেকে আসা “তাৎক্ষণিক হুমকি” প্রতিহত করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, তারা ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানের হাতে যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, তাতে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ১৫টি পারমাণবিক বোমা তৈরি সম্ভব।

তেহরানে জোরালো বিস্ফোরণ, ফ্লাইট বন্ধ: ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ জানিয়েছে, তেহরান শহর ও আশপাশে একাধিক জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

বিপুল হতাহতের আশঙ্কা: ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি হামলায় “অনেক হতাহতের” কথা বললেও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, ইরানি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফসহ কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের বক্তব্য- প্রতিরোধমূলক হামলা: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, “ইরান থেকে আসন্ন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি ছিল একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।”
দেশজুড়ে সাইরেন বাজিয়ে জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে। ভোর ৩টা থেকে সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করে “জরুরি কার্যক্রম ছাড়া সবকিছু বন্ধ রাখার” নির্দেশনা জারি করা হয়।

মার্কিন প্রতিক্রিয়া- ‘আমরা জড়িত নই’: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবে জড়িত নয়। তার ভাষায়, “মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে হামলা হলে তার প্রতিক্রিয়া হবে ভয়াবহ।”

ইরানের হুঁশিয়ারি ছিল আগেই: হামলার মাত্র দুই দিন আগেই ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ বলেছিলেন, “যদি পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে পড়ে এবং যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে আমাদের লক্ষ্য হবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি।”

পরিস্থিতি থমথমে, উত্তেজনা তুঙ্গে: ইরানজুড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও জনসমাগম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলও সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে এই হামলার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে পরিস্থিতি এগিয়ে যাচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এক চরম হুমকি হয়ে উঠতে পারে।