যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে নতুন কৌশল নিয়েছে চীন। এরই অংশ হিসেবে চীনা সরকার ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৮৫ হাজারের বেশি ভারতীয় নাগরিককে ভিসা দিয়েছে। বেইজিংয়ে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “চীন সফররত ভারতীয় বন্ধুদের জন্য এটাই আমাদের আতিথেয়তার নিদর্শন। আমরা আরও বেশি ভারতীয় নাগরিককে চীন ভ্রমণে স্বাগত জানাই। চীনের উন্মুক্ত, নিরাপদ, প্রাণবন্ত এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ অভিজ্ঞতা নেওয়ার আমন্ত্রণ জানাই।”
ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন
চীন ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করার জন্য বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. এখন থেকে ভারতীয় আবেদনকারীরা পূর্বনির্ধারিত অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই সরাসরি কনস্যুলেটে ভিসা আবেদন জমা দিতে পারবেন।
২. স্বল্প সময়ের ভ্রমণের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক নয়, ফলে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে।
৩. ভিসার ফি কমানো হয়েছে, যাতে ভারতীয় পর্যটকরা কম খরচে চীন ভ্রমণ করতে পারেন।
৪. ভিসা অনুমোদনের সময়সীমাও কমানো হয়েছে।
৫. চীন এখন ভারতীয় পর্যটকদের চীনা সংস্কৃতি, উৎসব এবং দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে।
চীন-ভারত সম্পর্ক জোরদারে কৌশল
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইউ জিং বলেন, “চীন-ভারত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা শুল্ক আরোপের মুখে দাঁড়িয়ে দুই উন্নয়নশীল দেশের উচিত একে অপরকে সহযোগিতা করা।”
তিনি আরও বলেন, “সব দেশের উচিত একে অন্যের সঙ্গে পরামর্শ করে এগোনো এবং প্রকৃত অর্থে বহুপাক্ষিকতা চর্চা করা। কোনো একতরফা শুল্কনীতি বা চাপ প্রয়োগমূলক কূটনীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।”
ভবিষ্যৎ বার্তা
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই কৌশলিক সিদ্ধান্ত শুধু পর্যটন বা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বার্তা নয়, বরং ভৌগলিক রাজনীতিতে ভারসাম্য আনার একটি পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক দূরত্ব যত বাড়বে, চীন তত বেশি ভারতের দিকে কৌশলগত হাত বাড়াবে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতও নিজেদের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে, বিশেষ করে যখন বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য যুদ্ধের আবহ তৈরি হচ্ছে।
সূত্র: NDTV






