বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সকালবেলা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন, আর পাকিস্তানের পক্ষে অংশ নেবেন দেশটির পররাষ্ট্র সচিব আমেনা বালুচ, যিনি ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন।
গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত শীতল। তবে গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রস্তাবে বাংলাদেশ ইতিবাচক সাড়া দেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে এবং ডিসেম্বরে মিসরে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সচিব পর্যায়ের বৈঠকটি হতে যাচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, “দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা করেছেন, সেটিই এই বৈঠকের ভিত্তি।” তিনি আরও জানান, বৈঠকে রাজনৈতিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি, সংস্থা, কানেক্টিভিটি, প্রতিরক্ষা, কৃষি ও অন্যান্য সহযোগিতার বিষয় আলোচনা হবে।
১৫ বছরের সম্পর্কের চিত্র: ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। যদিও বাণিজ্য, ভিসা ও সাধারণ জনগণের যোগাযোগ ছিল, ২০১৩ সালে জামায়াতে ইসলামীর নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির পর সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটে। বাংলাদেশ ভিসা প্রক্রিয়া কঠিন করলে পাকিস্তানও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, যা থেকে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক আর স্বাভাবিক হয়নি।
বৈঠকের পরবর্তী সম্ভাবনা: ১৫ বছর পর এই প্রথমবার পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। ফলে শুধু বাংলাদেশ ও পাকিস্তান নয়, আঞ্চলিক অন্যান্য দেশও বিষয়টিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সাবেক এক কূটনীতিক মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক কেবল দ্বিপাক্ষিক নয়, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অভিঘাতও এতে পড়ে।” তিনি বলেন, “টেকসই সম্পর্ক গঠনের জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস জরুরি, যা গত ১৫ বছর ছিল না।”
ইতিহাসের দায়: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য পাকিস্তান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি, এবং বাংলাদেশের সম্পদ ফেরত দেয়নি। সাবেক এক কূটনীতিক বলেন, “নতুন আলোচনার পাশাপাশি ১৯৭১ সালের নির্মমতার জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়ার দাবি থেকে বাংলাদেশকে সরে আসা উচিত নয়।”






