কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) বিহারের এক জনসভায় তিনি বলেন, “আমরা হামলাকারীদের ‘পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত’ তাড়া করে খুঁজে বের করব।”
কাশ্মীরের পেহেলগাম এলাকায় পর্যটকদের বহনকারী একটি বাসে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হয়। ভারতের পুলিশ দাবি করেছে, হামলাকারীদের মধ্যে অন্তত দুজন পাকিস্তানি নাগরিক। তবে মোদি তার বক্তব্যে কারও নামোল্লেখ করেননি।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “হামলাকারী ও তাদের মদদদাতাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া হবে।” তিনি নিহতদের স্মরণে হাতজোড় করে প্রার্থনাও করেন এবং উপস্থিত জনতাকেও একই আহ্বান জানান।
ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা আরও বেড়েছে এই ঘটনার পর। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, বুধবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিসভা নিরাপত্তা কমিটিকে হামলার আন্তসীমান্ত সংযোগ সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। তিনি এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ বেসামরিক হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
হামলার জেরে ভারত:
- ছয় দশকের পুরোনো সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত করেছে
- দুই দেশের একমাত্র স্থলসীমান্ত বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে
- পাকিস্তানে থাকা সব প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে অবাঞ্ছিত ব্যক্তি ঘোষণা করে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে
- পাকিস্তানি দূতাবাসে কর্মী সংখ্যা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৩০ করছে
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ায় দেশটির বিদ্যুৎমন্ত্রী আওয়াইস লেখারি ভারতের এই পদক্ষেপকে ‘জলযুদ্ধের ঘোষণা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি একে ‘কাপুরুষোচিত ও অবৈধ’ পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেন।
এদিকে, কাশ্মীর পুলিশ তিনজন সন্দেহভাজনের নাম ও স্কেচ প্রকাশ করেছে, যাদের মধ্যে দুজন পাকিস্তানি বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের ধরিয়ে দিলে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছে পুলিশ। তবে কীভাবে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী মোদি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন, যাতে বিরোধীদলগুলোকে পরিস্থিতি ও সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করা হয়।






