টানা বর্ষণে রূপগঞ্জে ৫০ গ্রামের প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি

রিয়াজ হোসেন, রূপগঞ্জ 

প্রকাশ :

ছবি: স্টাফ রিপোর্টারের পাঠানো ছবি

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৫০ গ্রামের সৃষ্টি হয়েছে কৃত্রিম বন্যা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে ঐসকল গ্রামে কমপক্ষে ৮০ হাজার মানুষ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। অনেকে কাজকর্ম বন্ধ করে অলস সময় পাড় করছে।

অপরিকল্পিতভাবে সেচ প্রকল্প নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের খালগুলো বেদখলে ভরাট হয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বালি ভরাটের কারণে মূলত এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের পাচাইখা, টেলাপাড়া, বলাইখা, আউখাবো মাঝিপাড়া, ভায়েলা, পাড়াগাও, মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাও, পাবই, মাছিমপুর, মিরকুটিরছেও, গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের , গোলাকান্দাইল মধ্যপাড়া , দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, বৌবাজার, খালপাড়, আমলাবো, কালী, আমলাব মুসলিম পাড়া,ডুলুরদিয়া, গোলাকান্দাইল নতুন বাজার, কান্দাপাড়া, বিজয়নগর, মদিনা নগর, তারাবো পৌরসভার তেঁতলাবো, শান্তিনগর, পশ্চিম কান্দাপাড়া, উত্তর মাসাবো, তারাবো পৌরসভার বরপা, যাত্রামুড়া, রূপসী, কাঞ্চন পৌরসভার হাটাবো, আতলাশপুর, বারৈপাড় ,টেকপাড়া, নরাবো টেক, কেন্দুয়া জেলে পাড়া, রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ব্রাম্মনখালী,গুতিয়াব নামাপাড়া, দক্ষিনবাগ, বেলেরটেকসহ ৫০ গ্রামের কৃত্রিম বন্যা বা জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়েছে।
এই জলাবদ্ধতার কারণে উপজেলার প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাড়ির উঠোনেই পানি হাঁটু থেকে কোমর পরিমাণ। অনেকের বসত ঘরে ১ থেকে ২ ফুট পানি। অনেক এলাকায় রাস্তা ঘাট তলিয়ে গেছে। বন্ধ হয়েছে মানুষের চলাচল।
অনেক কৃষক জলাবদ্ধতার কারনে গবাদি পশু অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। বাড়ি ঘরে পানি উঠায় অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে।
কোন কোন স্থানে টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে গেছে। সেসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। এছাড়া শিল্প কারখানার নির্গত ক্যামিকেল ও দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানিতে দূষণ হয়ে রোগাক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ নারী ও শিশুরা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

হাটাব টেকপাড়া এলাকার বাসিন্দা রিপন বলেন, আমার বাড়ির রাস্তায় হাঁটু পরিমাণ পানি চলাচল করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে । ময়লা পানি দিয়ে চলাচল করায় শিশু সহ বড়দের পায়ে চুলকানি দেখা দিয়েছে

গোলাকান্দাইর নতুন বাজার এলাকার মহসীন মিয়া জানাযন, জলাবদ্ধতায় অতি কষ্টে চলছে আমাদের জীবন। শিল্প কারখানার নির্গত বর্জ্যে পানি নিষ্কাশন খালগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্প কারখানার নির্গত গরম পানি জলাবদ্ধতায় মিশে গেছে। তাতে জলাবদ্ধতার পানি কুচকুচে কালো রঙ ধারণ করেছে। এ পানিতে হাঁটাচলা করতে গিয়ে মানুষ চর্ম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পানির কীট-পতঙ্গসহ মাছ মরে যাচ্ছে। আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন আমাদের এই পানি দ্রুত নিষ্কাশন করে আমাদের এই জীবন দশা থেকে মুক্তি দেন।
খাবারের অসুবিধা চুলায় আগুন জ্বালাতে পারি না। বিশুদ্ধ পানি নেই। সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ির অনেক ভাড়াটিয়া এ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

গােলাকান্দাইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, রূপগঞ্জ শিল্পাঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সে কারণে জমির দাম বেশি। তুলনামূলকভাবে নিচু জমির দাম কম। তাই অনেকেই নিচু অঞ্চলে কম দামে জমি ক্রয় করে ঘর বাড়ি নির্মাণ করছেন। আর সে কারণেই নির্মিত ঘর বাড়িতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

বানিয়াদী এলাকার ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে এখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা বেচে আছি । বানিয়াদী এলাকায় স্লইচগেইট থাকলেও ওখানকার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা ঢাকা ঢাকায় থাকেন। সময়মত মেশিন চালু না রাখায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

এব্যাপারে কথা বলার জন্য নারায়ণগঞ্জ নরসিংদী সেচ প্রকল্পের বানিয়াদী অফিসে গিয়ে দায়িত্বরত কাউকে পাওয়া যায়নি।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন টানা বর্ষণে রূপগঞ্জের বিভিন্ন নিন্মাঞ্চলে পানি জমে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় এ সমস্যাটা বেশী। আমি নিজ উদ্যোগে দখল হওয়া বেশ কয়েকটি খাল উদ্ধার করেছি। এছাড়া বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরশনে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

টানা বর্ষণে রূপগঞ্জে ৫০ গ্রামের প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি

রিয়াজ হোসেন, রূপগঞ্জ 

প্রকাশ :

স্টাফ রিপোর্টারের পাঠানো ছবি

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৫০ গ্রামের সৃষ্টি হয়েছে কৃত্রিম বন্যা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে ঐসকল গ্রামে কমপক্ষে ৮০ হাজার মানুষ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। অনেকে কাজকর্ম বন্ধ করে অলস সময় পাড় করছে।

অপরিকল্পিতভাবে সেচ প্রকল্প নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের খালগুলো বেদখলে ভরাট হয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বালি ভরাটের কারণে মূলত এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের পাচাইখা, টেলাপাড়া, বলাইখা, আউখাবো মাঝিপাড়া, ভায়েলা, পাড়াগাও, মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাও, পাবই, মাছিমপুর, মিরকুটিরছেও, গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের , গোলাকান্দাইল মধ্যপাড়া , দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, বৌবাজার, খালপাড়, আমলাবো, কালী, আমলাব মুসলিম পাড়া,ডুলুরদিয়া, গোলাকান্দাইল নতুন বাজার, কান্দাপাড়া, বিজয়নগর, মদিনা নগর, তারাবো পৌরসভার তেঁতলাবো, শান্তিনগর, পশ্চিম কান্দাপাড়া, উত্তর মাসাবো, তারাবো পৌরসভার বরপা, যাত্রামুড়া, রূপসী, কাঞ্চন পৌরসভার হাটাবো, আতলাশপুর, বারৈপাড় ,টেকপাড়া, নরাবো টেক, কেন্দুয়া জেলে পাড়া, রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ব্রাম্মনখালী,গুতিয়াব নামাপাড়া, দক্ষিনবাগ, বেলেরটেকসহ ৫০ গ্রামের কৃত্রিম বন্যা বা জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়েছে।
এই জলাবদ্ধতার কারণে উপজেলার প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বাড়ির উঠোনেই পানি হাঁটু থেকে কোমর পরিমাণ। অনেকের বসত ঘরে ১ থেকে ২ ফুট পানি। অনেক এলাকায় রাস্তা ঘাট তলিয়ে গেছে। বন্ধ হয়েছে মানুষের চলাচল।
অনেক কৃষক জলাবদ্ধতার কারনে গবাদি পশু অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। বাড়ি ঘরে পানি উঠায় অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে।
কোন কোন স্থানে টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে গেছে। সেসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। এছাড়া শিল্প কারখানার নির্গত ক্যামিকেল ও দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানিতে দূষণ হয়ে রোগাক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ নারী ও শিশুরা দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

হাটাব টেকপাড়া এলাকার বাসিন্দা রিপন বলেন, আমার বাড়ির রাস্তায় হাঁটু পরিমাণ পানি চলাচল করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে । ময়লা পানি দিয়ে চলাচল করায় শিশু সহ বড়দের পায়ে চুলকানি দেখা দিয়েছে

গোলাকান্দাইর নতুন বাজার এলাকার মহসীন মিয়া জানাযন, জলাবদ্ধতায় অতি কষ্টে চলছে আমাদের জীবন। শিল্প কারখানার নির্গত বর্জ্যে পানি নিষ্কাশন খালগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্প কারখানার নির্গত গরম পানি জলাবদ্ধতায় মিশে গেছে। তাতে জলাবদ্ধতার পানি কুচকুচে কালো রঙ ধারণ করেছে। এ পানিতে হাঁটাচলা করতে গিয়ে মানুষ চর্ম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পানির কীট-পতঙ্গসহ মাছ মরে যাচ্ছে। আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
আমরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন আমাদের এই পানি দ্রুত নিষ্কাশন করে আমাদের এই জীবন দশা থেকে মুক্তি দেন।
খাবারের অসুবিধা চুলায় আগুন জ্বালাতে পারি না। বিশুদ্ধ পানি নেই। সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ির অনেক ভাড়াটিয়া এ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে।

গােলাকান্দাইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, রূপগঞ্জ শিল্পাঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সে কারণে জমির দাম বেশি। তুলনামূলকভাবে নিচু জমির দাম কম। তাই অনেকেই নিচু অঞ্চলে কম দামে জমি ক্রয় করে ঘর বাড়ি নির্মাণ করছেন। আর সে কারণেই নির্মিত ঘর বাড়িতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

বানিয়াদী এলাকার ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে এখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা বেচে আছি । বানিয়াদী এলাকায় স্লইচগেইট থাকলেও ওখানকার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা ঢাকা ঢাকায় থাকেন। সময়মত মেশিন চালু না রাখায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

এব্যাপারে কথা বলার জন্য নারায়ণগঞ্জ নরসিংদী সেচ প্রকল্পের বানিয়াদী অফিসে গিয়ে দায়িত্বরত কাউকে পাওয়া যায়নি।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন টানা বর্ষণে রূপগঞ্জের বিভিন্ন নিন্মাঞ্চলে পানি জমে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় এ সমস্যাটা বেশী। আমি নিজ উদ্যোগে দখল হওয়া বেশ কয়েকটি খাল উদ্ধার করেছি। এছাড়া বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরশনে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।