বরগুনায় ধর্ষণ মামলার বাদী মন্টু দাস হত্যার চার দিনেও খুনিদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এতে জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, বরগুনা পৌর শহরের মন্টু দাসের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে চলতি বছরের ২ মার্চ সিজিব রায় ও তার সহযোগীরা অপহরণ করে। পরে রাতভর সিজিব রায় ধর্ষণ করে বরগুনা ডিসি পার্কের পাশে রেখে যান। এ ঘটনায় মন্টু দাস বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় মামলা করেন। পুলিশ সিজিব রায়কে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়।
গত বুধবার (১২ মার্চ) ছিল সিজিব রায়ের জামিনের শুনানি। এর আগের দিন মঙ্গলবার রাতে মন্টু দাসকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরিবারের ধারণা, ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সিজিব রায়ের লোকজন মন্টু দাসকে হত্যা করেছে। নিহত মন্টু দাস ছিলেন তার সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মন্টুর সংসারে স্ত্রী শিখা রাণী, মন্টু দাসের প্যারালাইস্ট বৃদ্ধা মা, দেড় মাসের এক কন্যা সন্তান ও বড় দুই মেয়েসহ তিন সন্তান রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বিকেলে নিহত মন্টু দাসের বাড়ি বরগুনার পুলিশ সুপার মোঃ ইব্রাহিম খলিল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি হত্যাকান্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
সরেজমিনে গিয়ে নিহত ব্যক্তির বোন জানান, আসামি সিজিব রায় আগে থেকে অপকর্মে জড়িত। এক বছর আগে একটি ঘরে সিঁধ কেটে এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। সিজিবের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ধর্ষণ মামলা করায় সিজিব রায়ের স্বজন ও তার সহযোগীরা মন্টুকে হত্যা করেছে।
বরগুনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সময় লাগবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।






