অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব। এক জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে সময়সীমা, অর্থনৈতিক দিক এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আইন উপদেষ্টা বলেন, “সংবিধান সংশ্লিষ্ট সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্য অপরিহার্য। সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা বৃদ্ধি, সংসদের উচ্চকক্ষ চালু, ৭০ অনুচ্ছেদের সংশোধনসহ রাষ্ট্রের মৌলিক নীতিমালা নির্ধারণের মতো ইস্যুতে একক সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।”
ড. আসিফ নজরুল জানান, বিএনপি, জামায়াত, বাম দল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যদি একযোগে ‘জুলাই চার্টারে’ সই করে, তবে সেই ভিত্তিতে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হবে। তার মতে, রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকলে এমনকি সংবিধান সংশোধন ছাড়াও অনেক সংস্কার সম্ভব।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে নির্বাচন টাইমলাইন দিয়েছেন, তার কোনো ব্যত্যয় হবে না। ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬—এই সময়ের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
ছাত্র প্রতিনিধিদের অন্তর্বর্তী সরকারে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রদের গণ-আন্দোলনের অংশগ্রহণ ছিল বৈপ্লবিক। বিজয়ী শক্তি হিসেবে সরকার গঠনের দাবি তারা তোলেনি, বরং দায়িত্ব নিয়েছে। তারা নির্বাচন করলে অবশ্যই পদত্যাগ করবে।”
মব জাস্টিস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রথমদিকে কিছু শৈথিল্য থাকলেও এখন পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বিপ্লব পরবর্তী সময়ে আচরণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সময় লাগে, তবে সরকার কঠোর অবস্থানে আছে এবং থাকবে।”
এনসিপির কিছু নেতার আচরণ নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ নতুনভাবে দল তৈরি সহজ নয়। বাস্তববাদী প্রত্যাশা থাকতে হবে। আমি তাদের স্বচ্ছ আর্থিক নীতিমালা তৈরির পরামর্শ দিয়েছি, তারা একটি খসড়াও দিয়েছে।”
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্বাচন অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা ছিল, সেগুলোর প্রকৃতি সবাই জানে। এখন তারা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে নির্বাচনমুখী হচ্ছেন। কোনো বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।”
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই বিষয়টি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় আসেনি। বিচারিক প্রক্রিয়া ও জনমতের মাধ্যমেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।”
ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের বিষয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, “যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় আসে এবং ভারত তাকে প্রত্যর্পণ না করে, তবে তা দুই দেশের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”






