আজ ১৩ এপ্রিল, বাংলা বছরের শেষ দিন—চৈত্র সংক্রান্তি। কাল পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ ১৪৩২-এর সূচনা। এ দুই দিনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ। শহর থেকে গ্রাম, সমতল থেকে পাহাড়—সব জায়গাতেই আয়োজন চলছে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার।
চৈত্র সংক্রান্তির দিনটি শুধু বছরের শেষ দিন নয়, বরং এটি বাংলার চিরায়ত কৃষিসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, খরার তীব্রতা কাটিয়ে বৃষ্টির কামনায় প্রাচীন কৃষক সমাজ এই দিনে নানা রীতিনীতি পালন করতো, যা ধীরে ধীরে উৎসবে রূপ নেয়।
এ উপলক্ষে এবার দেশের ১২টি অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাধুমেলা। শ্রীমঙ্গলে পালিত হয়েছে চা-শ্রমিকদের ফাগুয়া উৎসব। রাজধানীতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজন করছে ‘নবপ্রাণ আন্দোলন’। আজ বিকালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে ব্যান্ড শো, যেখানে পারফর্ম করবে এফ মাইনর, ইনভোকেশন, ইমাং, চিম্বুক, ইউনিটি, ওয়ারফেজ, ভাইকিংসসহ দেশের নামকরা ব্যান্ডগুলো।
আগামীকাল ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে ছায়ানট আয়োজন করেছে রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। একই সময়ে রবীন্দ্র সরোবরে সুরের ধারার আয়োজনে গান শোনাবেন পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীরা। সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যেখানে অংশ নেবে ২৮টি জাতিগোষ্ঠী। বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় থাকবে বৈশাখী ব্যান্ড শো এবং সন্ধ্যায় চীনা কারিগরি দলের পরিবেশনায় ড্রোন শো।
সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানিয়েছেন, এবার প্রথমবারের মতো শোভাযাত্রায় অংশ নিচ্ছেন দুই শতাধিক ব্যান্ড শিল্পী, যারা বিশ্ব শান্তির বার্তা নিয়ে একটি সম্মিলিত গান পরিবেশন করবেন ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে। তিনি বলেন, “উৎসবটা বাংলাদেশের, তাই সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। এবার আমরা সেটাই করেছি।”
এদিকে পার্বত্য অঞ্চলে শুরু হয়েছে পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর বিজু বা বৈসাবি উৎসব। ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা সম্প্রদায়ের তিনটি উৎসব—বৈসু, সাংগ্রাই ও বিজু—মিলে তৈরি হয়েছে বৈসাবি। চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ মিলিয়ে দু’দিনব্যাপী চলে এই উৎসব। চাকমা সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে রান্না হচ্ছে ‘পাজন’—নানান রকম সবজির মিশ্রণে তৈরি এক ঐতিহ্যবাহী খাবার। এটি বন্ধু ও অতিথিদের আপ্যায়নে ব্যবহার করা হয় এবং মঙ্গল কামনায় খাওয়া হয় বছর শেষে।
পুরান ঢাকার আকাশ ইতোমধ্যে রঙিন হয়ে উঠেছে ঘুড়ির উৎসবে। চৈত্র সংক্রান্তিতে ঘুড়ি ওড়ানোর এই ঐতিহ্য সেখানে শতাব্দীর বেশি সময় ধরে চলছে।
এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সব মাদ্রাসায় চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষ উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ও আদিবাসী নববর্ষ পালন করতে হবে।






