নাঃগঞ্জে চামড়া সংরক্ষণে লবণের ঘাটতি নেই

কোরবানির চামড়া প্রক্রিয়ায় জেলায় লবণের চাহিদা ১ হাজার টন

স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জে এবারের কোরবানির মৌসুমে প্রায় এক লাখ পশু কোরবানি হবে এমনটাই লক্ষ্য
নির্ধারণ করেছে জেলা প্রশাসন। আর সেই সঙ্গে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যও সমান সংখ্যক, অর্থাৎ এক লাখ। প্রতিটি গরুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে গড়ে ১০ থেকে ১২ কেজি সাদা লবণ প্রয়োজন হয়। সে হিসাবে শুধুমাত্র কোরবানির মৌসুমেই জেলায় চামড়া প্রক্রিয়াকরণে প্রয়োজন হবে প্রায় এক হাজার টন লবণ।

তবে এ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই। নারায়ণগঞ্জের লবণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জেলায় বর্তমানে সাদা লবণের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার টন। ফলে চাহিদার তুলনায় ১১৯ গুণ বেশি মজুদ থাকায় লবণের সংকট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

নারায়ণগঞ্জ লবণ ব্যবসায়ী সমিতির একজন প্রবীণ সদস্য বলেন, “এবার আমরা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছি। সরকার লবণ আমদানির অনুমতি না দিলেও আমাদের অভ্যন্তরীণ সরবরাহেই চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে। ইতিমধ্যে শহরজুড়ে গুদামগুলোতে লবণের প্যাকেজিং ও বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের হিসাবমতে, জেলায় গড়ে প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ টন লবণ সরবরাহ করা সম্ভব। কিন্তু ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা সেই সরবরাহ সক্ষমতা দ্বিগুণ করেছি। এবার যেহেতু লবণ আমদানি করতে হয়নি, তাই দামও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

পাইকারি বাজারে স্থিতিশীলতা: শহরের পাইকারি লবণ বাজার নিতাইগঞ্জ, ও মাছুয়াবাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি সাদা লবণ বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ টাকায়। এ দাম গত মাসের তুলনায় অপরিবর্তিত। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এবার অনেকেই আগাম মজুদ করেছিলেন। ফলে হঠাৎ করে দাম বাড়ার সুযোগ নেই।

নিতাইগঞ্জের লবণ আড়তের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, “চামড়া প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লবণ। কাঁচা চামড়ার গায়ে দ্রুত লবণ না দিলে তা নষ্ট হয়ে যায়। তাই আমরা ঈদের আগেই চামড়া সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ শুরু করেছি।”

চামড়া সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অতীতে নানা অনিয়ম দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে লবণ না পাওয়ায় নষ্ট হয়ে যায় চামড়া। আবার কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী উচ্চমূল্যে লবণ বিক্রি করে থাকেন। এ বিষয়ে সতর্ক জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ।

জেলা প্রশাসনের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “লবণ নিয়ে যেন কোনো সিন্ডিকেট তৈরি না হয়, সেটা আমরা নজরে রেখেছি। মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেকোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।”

তিনি জানান, কোরবানির ঈদে নারায়ণগঞ্জ শহর ও উপজেলার বিভিন্ন হাটে মোবাইল টিম থাকবে। লবণ বিক্রির জায়গাগুলোতেও নজরদারি থাকবে যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নারায়ণগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক আসিফ উদ্দিন বলেন, “একটি চামড়ার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে প্রথম ২৪ ঘণ্টার প্রক্রিয়াজাতকরণে। এ সময় লবণ ঠিকভাবে প্রয়োগ না করলে পরে আর কিছু করার থাকে না। এ কারণে আমরা ব্যবসায়ীদের বলেছি, ভালো মানের লবণ যেন ব্যবহার করা হয়।”

লবণের ব্যবসায়ী আবদুল মতিন বলেন, “সাধারণত ঈদের দিন থেকে তিন দিন চাহিদা তুঙ্গে থাকে। আমরা সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এবার চামড়া পচবে না, লবণের অভাবে বিক্রি হবে না—এটাই চাই।”শেষ কথা চামড়া যাতে পড়ে না থাকে, পচে না যায়, সেটা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত নারায়ণগঞ্জ। আর সেই প্রস্তুতির বড় ভিত্তি হচ্ছে ১ লাখ ১৯ হাজার টন সাদা লবণের মজুদ।

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

নাঃগঞ্জে চামড়া সংরক্ষণে লবণের ঘাটতি নেই

কোরবানির চামড়া প্রক্রিয়ায় জেলায় লবণের চাহিদা ১ হাজার টন

স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ :

সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জে এবারের কোরবানির মৌসুমে প্রায় এক লাখ পশু কোরবানি হবে এমনটাই লক্ষ্য
নির্ধারণ করেছে জেলা প্রশাসন। আর সেই সঙ্গে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যও সমান সংখ্যক, অর্থাৎ এক লাখ। প্রতিটি গরুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে গড়ে ১০ থেকে ১২ কেজি সাদা লবণ প্রয়োজন হয়। সে হিসাবে শুধুমাত্র কোরবানির মৌসুমেই জেলায় চামড়া প্রক্রিয়াকরণে প্রয়োজন হবে প্রায় এক হাজার টন লবণ।

তবে এ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই। নারায়ণগঞ্জের লবণ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জেলায় বর্তমানে সাদা লবণের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার টন। ফলে চাহিদার তুলনায় ১১৯ গুণ বেশি মজুদ থাকায় লবণের সংকট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

নারায়ণগঞ্জ লবণ ব্যবসায়ী সমিতির একজন প্রবীণ সদস্য বলেন, “এবার আমরা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছি। সরকার লবণ আমদানির অনুমতি না দিলেও আমাদের অভ্যন্তরীণ সরবরাহেই চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে। ইতিমধ্যে শহরজুড়ে গুদামগুলোতে লবণের প্যাকেজিং ও বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের হিসাবমতে, জেলায় গড়ে প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ টন লবণ সরবরাহ করা সম্ভব। কিন্তু ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা সেই সরবরাহ সক্ষমতা দ্বিগুণ করেছি। এবার যেহেতু লবণ আমদানি করতে হয়নি, তাই দামও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

পাইকারি বাজারে স্থিতিশীলতা: শহরের পাইকারি লবণ বাজার নিতাইগঞ্জ, ও মাছুয়াবাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি সাদা লবণ বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ টাকায়। এ দাম গত মাসের তুলনায় অপরিবর্তিত। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এবার অনেকেই আগাম মজুদ করেছিলেন। ফলে হঠাৎ করে দাম বাড়ার সুযোগ নেই।

নিতাইগঞ্জের লবণ আড়তের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, “চামড়া প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লবণ। কাঁচা চামড়ার গায়ে দ্রুত লবণ না দিলে তা নষ্ট হয়ে যায়। তাই আমরা ঈদের আগেই চামড়া সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ শুরু করেছি।”

চামড়া সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অতীতে নানা অনিয়ম দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে লবণ না পাওয়ায় নষ্ট হয়ে যায় চামড়া। আবার কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী উচ্চমূল্যে লবণ বিক্রি করে থাকেন। এ বিষয়ে সতর্ক জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ।

জেলা প্রশাসনের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “লবণ নিয়ে যেন কোনো সিন্ডিকেট তৈরি না হয়, সেটা আমরা নজরে রেখেছি। মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেকোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন হলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।”

তিনি জানান, কোরবানির ঈদে নারায়ণগঞ্জ শহর ও উপজেলার বিভিন্ন হাটে মোবাইল টিম থাকবে। লবণ বিক্রির জায়গাগুলোতেও নজরদারি থাকবে যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নারায়ণগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক আসিফ উদ্দিন বলেন, “একটি চামড়ার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে প্রথম ২৪ ঘণ্টার প্রক্রিয়াজাতকরণে। এ সময় লবণ ঠিকভাবে প্রয়োগ না করলে পরে আর কিছু করার থাকে না। এ কারণে আমরা ব্যবসায়ীদের বলেছি, ভালো মানের লবণ যেন ব্যবহার করা হয়।”

লবণের ব্যবসায়ী আবদুল মতিন বলেন, “সাধারণত ঈদের দিন থেকে তিন দিন চাহিদা তুঙ্গে থাকে। আমরা সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এবার চামড়া পচবে না, লবণের অভাবে বিক্রি হবে না—এটাই চাই।”শেষ কথা চামড়া যাতে পড়ে না থাকে, পচে না যায়, সেটা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত নারায়ণগঞ্জ। আর সেই প্রস্তুতির বড় ভিত্তি হচ্ছে ১ লাখ ১৯ হাজার টন সাদা লবণের মজুদ।