জেলা প্রশাসক প্রত্যাহারের দাবিতে গণ অধিকার পরিষদের বিক্ষোভ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি 

প্রকাশ :

ছবি: প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন এর প্রত্যাহার এবং দায়িত্ব গ্রহণ থেকে সকল কর্মকাণ্ডের সঠিক তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচী পালন করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদ পটুয়াখালী জেলা শাখা।

শনিবার(১৪ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের ছোট চৌরাস্তা সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর ঘেরাও করে।
এ সময়ে বক্তারা বলেন, ফ্যাসিবাদের যে পতন হয়েছে তা কোটা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এক কোন বিস্ফোরণের মধ্য দিয়েই এই শেখ হাসিনাকে জনগণ দেশ থেকে বিতাড়িত করতে বাধ্য হয়েছে। এই শেখ হাসিনা হয়ে ওঠার পেছনে যাদের হাত সব থেকে বেশি তারা হচ্ছেন এই ডিসিরা। ২০১৮ ও ২০২৪ সালে যে নির্বাচন হয়েছে সে নির্বাচনে এই ডিসিরা শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেছে আপনার দলীয় নেতাকর্মীদের দরকার নেই আমরাই আপনাকে ৩০০ আসনে পাশ করিয়ে সংসদে পাঠাবো। গত তিনটা নির্বাচনে এই ডিসিদের ভূমিকা ছিল সব থেকে বেশি। দিনের ভোট রাতে করে ফেলেছে। প্রশাসনের কাছেই রাষ্ট্র যন্ত্রের সবকিছু। আর এই রাষ্ট্রযন্ত্রের সবকিছু ব্যবহার করেই শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার করতে বাধ্য হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী এই বাংলাদেশ এই প্রশাসন এই সচিবরা এই ডিসিরা যদি মনে করে তারা আগের যুগে ফেরত যাবে তাহলে তাদের বলবো আপনারা শেখ হাসিনা যে বিমানে করে পালিয়ে গিয়েছে ভিডিওটি বারবার দেখেন। আপনাদের অবস্থাও ওইরকম হতে বেশি দেরি নাই। বিএনপি থেকে ৫ আগস্ট পরবর্তী দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত রাখার প্রয়োজনে, তারা জানত গলাচিপা অশান্ত। তাই বিএনপি থেকে গণবাধিকার পরিষদ কে একটি চিঠি দেয়া হয়েছিল। ভিপি নূর যখন তাদের এলাকায় আসে তখন সেই চিঠিকে উপেক্ষা করে ভিপি নূরের উপরে হামলা করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। তখন তিনি প্রশাসনকে বলেছেন আমরা এখন কি করবো। আমরা যদি তাদের মতো পাল্টা হামলা করতাম তাহলে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা ছিল ওইখানে রক্তের বন্যা বয়ে যেত। পিসিকে সেনাবাহিনীকে এই ঘটনা জানানোর পরে সেনাবাহিনী ওইখানে যাওয়ার পরে ডিসির পক্ষ থেকে সেখানে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ডিসি ভেবেছিল নূরুল হক নূরকে সহযোগিতা না করলে সে ওইখান থেকে আসতে পারবে না। সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অর্ডারে সেখান থেকে ভিপি নুরুল হক নূরকে সহি সালামত গলাচিপা পৌঁছাতে সহযোগিতা করেছে। এই প্রশাসন বারবার বলেছিল আপনি গলাচিপা থেকে ঢাকাতে চলে যান। গলাচিপা আমাদের বাপ-দাদার সেখান থেকে কেন ঢাকা চলে যেতে হবে? আমরা বলতে চাই ভিপি নূরের সাহসিকতায় আন্দোলন সংগ্রাম করে তিনি এখন গলাচিপায় আছেন। আজ সে চরবিশ্বাসে সমাবেশ করতেছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী এই বাংলাদেশে আমরা দেশটা কাউকে ইজারা দেইনি। ছাত্র আন্দোলনের যে স্পিড সেই স্পিড যারা ধারণা করতে পারবে তাদের আমরা কোন প্রশাসনে চাই না। আমরা শুনি বিভিন্ন ছাত্ররা যখন প্রশাসনের কাছে যায় তখন তারা তাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। পটুয়াখালীতে এখনো কত আওয়ামী লীগের লোকজন ঘোরে প্রশাসন কি করে? তারা কি আঙ্গুল চোষে? তারা তাদেরকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি। তারা মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এই প্রশাসন এই ডিসির বিরুদ্ধে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো। এই ডিসির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।
জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মহসীন ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মসূচীতে গণ অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ফাহিমসহ কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

জেলা প্রশাসক প্রত্যাহারের দাবিতে গণ অধিকার পরিষদের বিক্ষোভ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি 

প্রকাশ :

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন এর প্রত্যাহার এবং দায়িত্ব গ্রহণ থেকে সকল কর্মকাণ্ডের সঠিক তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচী পালন করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদ পটুয়াখালী জেলা শাখা।

শনিবার(১৪ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের ছোট চৌরাস্তা সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর ঘেরাও করে।
এ সময়ে বক্তারা বলেন, ফ্যাসিবাদের যে পতন হয়েছে তা কোটা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই এক কোন বিস্ফোরণের মধ্য দিয়েই এই শেখ হাসিনাকে জনগণ দেশ থেকে বিতাড়িত করতে বাধ্য হয়েছে। এই শেখ হাসিনা হয়ে ওঠার পেছনে যাদের হাত সব থেকে বেশি তারা হচ্ছেন এই ডিসিরা। ২০১৮ ও ২০২৪ সালে যে নির্বাচন হয়েছে সে নির্বাচনে এই ডিসিরা শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেছে আপনার দলীয় নেতাকর্মীদের দরকার নেই আমরাই আপনাকে ৩০০ আসনে পাশ করিয়ে সংসদে পাঠাবো। গত তিনটা নির্বাচনে এই ডিসিদের ভূমিকা ছিল সব থেকে বেশি। দিনের ভোট রাতে করে ফেলেছে। প্রশাসনের কাছেই রাষ্ট্র যন্ত্রের সবকিছু। আর এই রাষ্ট্রযন্ত্রের সবকিছু ব্যবহার করেই শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার করতে বাধ্য হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী এই বাংলাদেশ এই প্রশাসন এই সচিবরা এই ডিসিরা যদি মনে করে তারা আগের যুগে ফেরত যাবে তাহলে তাদের বলবো আপনারা শেখ হাসিনা যে বিমানে করে পালিয়ে গিয়েছে ভিডিওটি বারবার দেখেন। আপনাদের অবস্থাও ওইরকম হতে বেশি দেরি নাই। বিএনপি থেকে ৫ আগস্ট পরবর্তী দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত রাখার প্রয়োজনে, তারা জানত গলাচিপা অশান্ত। তাই বিএনপি থেকে গণবাধিকার পরিষদ কে একটি চিঠি দেয়া হয়েছিল। ভিপি নূর যখন তাদের এলাকায় আসে তখন সেই চিঠিকে উপেক্ষা করে ভিপি নূরের উপরে হামলা করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। তখন তিনি প্রশাসনকে বলেছেন আমরা এখন কি করবো। আমরা যদি তাদের মতো পাল্টা হামলা করতাম তাহলে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা ছিল ওইখানে রক্তের বন্যা বয়ে যেত। পিসিকে সেনাবাহিনীকে এই ঘটনা জানানোর পরে সেনাবাহিনী ওইখানে যাওয়ার পরে ডিসির পক্ষ থেকে সেখানে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ডিসি ভেবেছিল নূরুল হক নূরকে সহযোগিতা না করলে সে ওইখান থেকে আসতে পারবে না। সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অর্ডারে সেখান থেকে ভিপি নুরুল হক নূরকে সহি সালামত গলাচিপা পৌঁছাতে সহযোগিতা করেছে। এই প্রশাসন বারবার বলেছিল আপনি গলাচিপা থেকে ঢাকাতে চলে যান। গলাচিপা আমাদের বাপ-দাদার সেখান থেকে কেন ঢাকা চলে যেতে হবে? আমরা বলতে চাই ভিপি নূরের সাহসিকতায় আন্দোলন সংগ্রাম করে তিনি এখন গলাচিপায় আছেন। আজ সে চরবিশ্বাসে সমাবেশ করতেছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী এই বাংলাদেশে আমরা দেশটা কাউকে ইজারা দেইনি। ছাত্র আন্দোলনের যে স্পিড সেই স্পিড যারা ধারণা করতে পারবে তাদের আমরা কোন প্রশাসনে চাই না। আমরা শুনি বিভিন্ন ছাত্ররা যখন প্রশাসনের কাছে যায় তখন তারা তাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। পটুয়াখালীতে এখনো কত আওয়ামী লীগের লোকজন ঘোরে প্রশাসন কি করে? তারা কি আঙ্গুল চোষে? তারা তাদেরকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি। তারা মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এই প্রশাসন এই ডিসির বিরুদ্ধে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো। এই ডিসির পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।
জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মহসীন ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মসূচীতে গণ অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ফাহিমসহ কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।