জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের জটিলতা নিয়ে জনদুর্ভোগের অভিযোগ অনেক পুরনো। সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে পরিস্থিতি, আর এবার সেই ভোগান্তির অবসান ঘটাতে উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এনআইডি সংশোধনের প্রক্রিয়া সহজ ও দুর্ভোগমুক্ত করতে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, সংশোধনের জন্য জমা পড়া অধিকাংশ আবেদনই সরকারি চাকরিজীবী ও প্রবাসীদের। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা ও জটিলতা থাকায় প্রক্রিয়া গতিশীল করতে সংশ্লিষ্টদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে সংশোধন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নিতে চায় ইসি। মন্ত্রণালয়গুলোর কাছ থেকে সংশোধনযোগ্য এনআইডির তালিকা নিয়ে একসঙ্গে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা চলছে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বারবার দৌড়াদৌড়ি কমবে এবং প্রক্রিয়াও দ্রুত হবে।
প্রবাসীদের ক্ষেত্রেও মানবিক বিবেচনায় বিশেষ ছাড় দেওয়ার চিন্তা রয়েছে কমিশনের। যেসব বিদেশি কাগজপত্র তাদের কাছে রয়েছে, তা যাচাই করে বাস্তবতার ভিত্তিতে সংশোধন করার চিন্তা করছে ইসি। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক সভা করে প্রক্রিয়া নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছি। পরিকল্পনা হচ্ছে—যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এনআইডি সংশোধন প্রয়োজন, তা তালিকা আকারে দিলেই আমরা সমন্বিতভাবে কাজটি করে দেব। একইভাবে প্রবাসীদের জন্যও বিদেশি কাগজপত্রের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার চিন্তা করছি।”
বর্তমানে চার লাখের বেশি এনআইডি সংশোধনের আবেদন ঝুলে আছে, যা জুন মাসের মধ্যেই নিষ্পত্তির লক্ষ্য নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এজন্য সংশোধন প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এনআইডি সেবা নিয়ে জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে ইসি ‘পজিটিভ’ অবস্থানে রয়েছে বলে জানান হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “সবকিছু এক দিনে সম্ভব নয়, কিন্তু আমরা অল্প অল্প করে এগোচ্ছি। আশা করছি শিগগিরই একটি কার্যকর ও সহজ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে পারব।”
বর্তমানে দেশের ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখের বেশি। সেই বিপুল জনগোষ্ঠীর তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও সংশোধনে সহজতর প্রক্রিয়া কার্যকর হলে, নাগরিক সেবায় এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।






