সালমান রুশদির ওপর হামলাকারী হাদি মাতারের ২৫ বছরের কারাদণ্ড

বাংলাদেশ রিপোর্ট ডেস্ক

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ-ভারতীয় সাহিত্যিক সালমান রুশদির ওপর ছুরি হামলার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি আদালত হামলাকারী হাদি মাতারকে (২৭) ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালত মনে করেছে, তার অপরাধের জন্য এটি সর্বোচ্চ উপযুক্ত শাস্তি।

২০২২ সালের আগস্ট মাসে চাওতাউকুয়া জেলায় এক সাহিত্যিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে উঠেছিলেন রুশদি। সেই সময় ২৪ বছর বয়সী হাদি মাতার ছুরি হাতে মঞ্চে উঠে তাকে একাধিকবার আঘাত করেন—ঘাড়, মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে মোট ১৫ বার ছুরিকাঘাত করেন তিনি।

গুরুতর আহত অবস্থায় রুশদিকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার করতে হয়। হামলার ফলে তিনি একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং এখনো পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি বলে আদালতে জানিয়েছেন।

রুশদি তার সাক্ষ্যে বলেন, “প্রথমে সে আমাকে ঘুষি মারে, এরপর ছুরি বের করে একের পর এক আঘাত করতে থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “এই আক্রমণের পর শরীর আর আগের মতো নেই। বহুদিন ধরে সেরে উঠেছি, তবু এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারিনি।”

আদালতে হাদি মাতার বলেন, “সালমান রুশদি অন্যদের অসম্মান করেন এবং মনে করেন সবাইকে তার মতোই হতে হবে। আমি এই চিন্তাধারার সঙ্গে একমত নই।”

রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকরা জানতে চান মাতার তার কাজের জন্য অনুতপ্ত কি না। জবাবে তার আইনজীবী নাথানিয়েল ব্যারন বলেন, “এটি যথার্থ প্রশ্ন, তবে আমি এর উত্তর নিশ্চিতভাবে দিতে পারি না। আমি শুধু বলতে পারি—মানুষ কখনো কখনো ভয়ানক ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, যার পরিণতি এতটাই মারাত্মক হয় যে, অনুশোচনা প্রকাশ করাও তখন কঠিন হয়ে পড়ে।”

১৯৪৭ সালের জুন মাসে ভারতের মুম্বাই শহরে এক কাশ্মিরি পরিবারে জন্ম সালমান রুশদির। কর্মজীবনের শুরুতে মুম্বাইয়ের বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কপিরাইটার হিসেবে কাজ করলেও পরে সাহিত্যেই পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন। ১৯৮১ সালে প্রকাশিত তার উপন্যাস মিডনাইটস চিলড্রেন তাকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দেয় এবং তিনি বুকার পুরস্কার অর্জন করেন।

তবে তার চতুর্থ উপন্যাস দ্য স্যাটানিক ভার্সেস (১৯৮৮) প্রকাশের পর কট্টরপন্থিদের রোষানলে পড়েন তিনি। বইটি কয়েকটি দেশে নিষিদ্ধ হয় এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া জারি করেন।

পরবর্তীতে আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য হন রুশদি এবং দীর্ঘ ৯ বছর যুক্তরাজ্যে লুকিয়ে ছিলেন। ছদ্মনাম ‘জোসেফ অ্যান্টন’ ব্যবহার করে বেঁচে ছিলেন সেই সময়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পুরনো বিদ্বেষই ২০২২ সালে বাস্তব হয়ে ধরা দেয়—দ্য স্যাটানিক ভার্সেস প্রকাশের ৩৫ বছর পর তিনি প্রাণঘাতী হামলার শিকার হন।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

সালমান রুশদির ওপর হামলাকারী হাদি মাতারের ২৫ বছরের কারাদণ্ড

বাংলাদেশ রিপোর্ট ডেস্ক

প্রকাশ :

সংগৃহীত

বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ-ভারতীয় সাহিত্যিক সালমান রুশদির ওপর ছুরি হামলার দায়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি আদালত হামলাকারী হাদি মাতারকে (২৭) ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। আদালত মনে করেছে, তার অপরাধের জন্য এটি সর্বোচ্চ উপযুক্ত শাস্তি।

২০২২ সালের আগস্ট মাসে চাওতাউকুয়া জেলায় এক সাহিত্যিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে উঠেছিলেন রুশদি। সেই সময় ২৪ বছর বয়সী হাদি মাতার ছুরি হাতে মঞ্চে উঠে তাকে একাধিকবার আঘাত করেন—ঘাড়, মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে মোট ১৫ বার ছুরিকাঘাত করেন তিনি।

গুরুতর আহত অবস্থায় রুশদিকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার করতে হয়। হামলার ফলে তিনি একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং এখনো পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি বলে আদালতে জানিয়েছেন।

রুশদি তার সাক্ষ্যে বলেন, “প্রথমে সে আমাকে ঘুষি মারে, এরপর ছুরি বের করে একের পর এক আঘাত করতে থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “এই আক্রমণের পর শরীর আর আগের মতো নেই। বহুদিন ধরে সেরে উঠেছি, তবু এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারিনি।”

আদালতে হাদি মাতার বলেন, “সালমান রুশদি অন্যদের অসম্মান করেন এবং মনে করেন সবাইকে তার মতোই হতে হবে। আমি এই চিন্তাধারার সঙ্গে একমত নই।”

রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকরা জানতে চান মাতার তার কাজের জন্য অনুতপ্ত কি না। জবাবে তার আইনজীবী নাথানিয়েল ব্যারন বলেন, “এটি যথার্থ প্রশ্ন, তবে আমি এর উত্তর নিশ্চিতভাবে দিতে পারি না। আমি শুধু বলতে পারি—মানুষ কখনো কখনো ভয়ানক ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, যার পরিণতি এতটাই মারাত্মক হয় যে, অনুশোচনা প্রকাশ করাও তখন কঠিন হয়ে পড়ে।”

১৯৪৭ সালের জুন মাসে ভারতের মুম্বাই শহরে এক কাশ্মিরি পরিবারে জন্ম সালমান রুশদির। কর্মজীবনের শুরুতে মুম্বাইয়ের বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কপিরাইটার হিসেবে কাজ করলেও পরে সাহিত্যেই পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন। ১৯৮১ সালে প্রকাশিত তার উপন্যাস মিডনাইটস চিলড্রেন তাকে বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দেয় এবং তিনি বুকার পুরস্কার অর্জন করেন।

তবে তার চতুর্থ উপন্যাস দ্য স্যাটানিক ভার্সেস (১৯৮৮) প্রকাশের পর কট্টরপন্থিদের রোষানলে পড়েন তিনি। বইটি কয়েকটি দেশে নিষিদ্ধ হয় এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া জারি করেন।

পরবর্তীতে আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য হন রুশদি এবং দীর্ঘ ৯ বছর যুক্তরাজ্যে লুকিয়ে ছিলেন। ছদ্মনাম ‘জোসেফ অ্যান্টন’ ব্যবহার করে বেঁচে ছিলেন সেই সময়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পুরনো বিদ্বেষই ২০২২ সালে বাস্তব হয়ে ধরা দেয়—দ্য স্যাটানিক ভার্সেস প্রকাশের ৩৫ বছর পর তিনি প্রাণঘাতী হামলার শিকার হন।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা