নোয়াখালীর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নে আলোচিত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন জুনায়েদকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি-সমর্থিত তিন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনার ঝড়, ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১৩ মে) সকালে ইউনিয়ন পরিষদের একটি আনুষ্ঠানিক সভায়। দীর্ঘ নয় মাস পলাতক থাকার পর চেয়ারম্যান জুনায়েদ হঠাৎ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। এ সময় ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতারা—ছালেহ উদ্দিন ভূঁইয়া, জামাল উদ্দিন ও আবদুর রহমান কাজল—তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ছালেহ উদ্দিন ভূঁইয়া নোয়ান্নই ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য, জামাল উদ্দিন ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার, এবং আবদুর রহমান কাজল ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
ঘটনার পরপরই ফেসবুকে ভাইরাল হয় একটি ছবি, যেখানে দেখা যায় চেয়ারম্যান জুনায়েদকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা বলেন, “যে ব্যক্তি আমাদের উপর নানা জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও রয়েছে, তাকেই যদি নিজেদের নেতারা ফুল দিয়ে বরণ করে, তাহলে আমাদের অবস্থান কোথায়?”
তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যরা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। জামাল উদ্দিন বলেন, “আমরা আসলে ইউনিয়নের নতুন প্রশাসনিক কর্মকর্তার আগমন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। চেয়ারম্যান জুনায়েদ সেখানে কীভাবে উপস্থিত হলেন, তা আমাদের অজানা। ছবিতে তিনি থাকলেও আমরা তাকে ফুল দিইনি।”
তিনি আরও দাবি করেন, ফুলের তোড়া মূলত নতুন কর্মকর্তার জন্য ছিল এবং চেয়ারম্যানের আগমনে তৃণমূল বিএনপি কর্মীরা কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য আমরা দুঃখিত। তিনি টাকা নেওয়ার অভিযোগ এবং হত্যামামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “তার মতো একজন আসামি প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে, অথচ পুলিশ কিছুই করছে না—এটাই বরং বড় প্রশ্ন।”
জানা গেছে, উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যান জুনায়েদ ইউপি রেজ্যুলেশন খাতায় তিনটি স্বাক্ষর করেন এবং ২৫ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প ৯টি ওয়ার্ডে সমানভাবে বণ্টনের নির্দেশ দিয়ে কোরবানির আগেই কাজ শেষ করার তাগিদ দেন।
ঘটনার নাটকীয়তায় হতবাক এলাকাবাসী। রাজনৈতিক বিরোধিতা ও আইনের শাসনের প্রশ্নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করার পরিবর্তে এমন ‘ফুলেল নাটক’ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—ক্ষমতা, দুর্নীতি ও রাজনীতির নৈতিকতাবোধ কি এখন শুধুই নাটকের দৃশ্যপট?






