‘ডিসেম্বরের মধ্যে অবশ্যই নির্বাচন হতে হবে’

তরুণদের ঢলে চাঙা বিএনপি 

বাংলাদেশ রিপোর্ট

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

“আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে দেশের তরুণ সমাজ আর চুপ থাকবে না। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে—জনগণের দাবি মানতেই হবে।”
এই কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক মহাসমাবেশে তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন।

তারুণ্যের ঢল, উত্তাল নয়াপল্টন: এদিন নয়াপল্টন পরিণত হয় তারুণ্যের সমুদ্রে। ঢাকা ছাড়াও ময়মনসিংহ, সিলেট ও ফরিদপুর বিভাগ থেকে আগত হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকে ভরে যায় পুরো এলাকা। সমাবেশে উত্তেজনা ও আশাবাদের আবহ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন,

 “ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে। অবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।”

তিনি সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “জনগণ আর সময় দেবে না। অবাধ নির্বাচন না হলে দেশের তরুণরা রাজপথেই জবাব দেবে।”

বিজয়ের দ্বিতীয় পর্ব চলছে: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, “আওয়ামী লীগের সময় আমরা যুদ্ধ করেছি, এবার গণতন্ত্র উদ্ধার করবো রাজপথে থেকেই।”
তিনি উল্লেখ করেন, “জুলাই-আগস্টে আমরা প্রথম বিজয় অর্জন করেছি। এখন আমরা দ্বিতীয় বিজয়ের পথে এগিয়ে চলেছি। তরুণ সমাজ আমাদের মূল শক্তি।”

মঈন খান আরও বলেন, “জনগণ গণতন্ত্র চায়। সেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে বিএনপি বারবার সহিংসতা, দমন-পীড়ন আর জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে। এখন আর পিছু হটার সময় নয়।”

বিএনপির বার্তা- নির্বাচনের আগে সহানুভূতি নয়, নিরপেক্ষতা চাই: বিএনপির নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সমাবেশে সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, “যদি নির্বাচন ঠেকাতে ষড়যন্ত্র করে, তাহলে বিএনপির তরুণ কর্মীরা সেটা রাজপথেই প্রতিহত করবে।”

ইন্টারিম সরকার পালিয়ে যাবে: বক্তব্যে ড. মঈন খান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এখনো সময় আছে, নিরপেক্ষ নির্বাচনের উদ্যোগ নিন। তা না হলে বিক্ষুব্ধ তরুণদের আন্দোলনে এই অন্তর্বর্তী সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে সহযোগিতা করেছি, এখনও করছি। কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না হলে সেই সহায়তা আর থাকবে না।”

সমাবেশের আয়োজক ও বক্তারা: বিএনপির তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন—জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল—এ সমাবেশের আয়োজন করে।
সভাপতিত্ব করেন যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না। সঞ্চালনায় ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা—ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বক্তারা সবাই সরকারের প্রতি অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানান এবং দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

তারেকের বার্তা- সরকার চাইলে সমাধান সম্ভব: তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন,

“এই সংকটের সমাধান সরকারের হাতে। তারা চাইলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করে নতুন রোডম্যাপ দিতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সংঘাত চাই না, কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করতেই হবে। দেশের তরুণ প্রজন্ম আজ সোচ্চার, সংগঠিত। ওদের আর ঠেকানো যাবে না।”

ডিজিটাল প্রজন্ম চায় ভোটের অধিকার: সমাবেশে অংশ নেওয়া ছাত্রদলের একজন নেতা বলেন, “আমরা ফেসবুক-ইউটিউবের প্রজন্ম, কিন্তু সেই প্রজন্মেরই ভোটাধিকার নেই। এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
অন্য এক স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী বলেন, “আমরা শুধু স্লোগান দিতে আসিনি, আমরা সরকারকে বিদায় জানাতে প্রস্তুত।”

সরকারের নীরবতা, মাঠে প্রস্তুতি: এদিকে সরকারি পক্ষ থেকে এখনো এই সমাবেশ বা তারেক রহমানের বক্তব্যের বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি ধীরে ধীরে তার হারানো সংগঠনগত শক্তি পুনর্গঠন করছে এবং তারুণ্যের মাধ্যমে রাজপথে ফের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিশ্লেষক মিজানুর রহমান খান বলেন,

“তারেক রহমান লন্ডন থেকে যে বার্তা দিয়েছেন, তা এখন মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের আন্দোলনে পরিণত করার চেষ্টা হচ্ছে। সরকার যদি বাস্তবতা না বুঝে, তাহলে রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।”

এই মহাসমাবেশে বিএনপি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—সময় আর নেই। ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন না হলে পরিণাম ভয়াবহ হবে।
সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

এই অবস্থায় সব পক্ষের জন্যই প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে:
নির্বাচনের পথে কি সমঝোতা সম্ভব, নাকি সংঘাতই নিয়তি?

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

‘ডিসেম্বরের মধ্যে অবশ্যই নির্বাচন হতে হবে’

তরুণদের ঢলে চাঙা বিএনপি 

বাংলাদেশ রিপোর্ট

প্রকাশ :

সংগৃহীত

“আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে দেশের তরুণ সমাজ আর চুপ থাকবে না। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে—জনগণের দাবি মানতেই হবে।”
এই কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক মহাসমাবেশে তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন।

তারুণ্যের ঢল, উত্তাল নয়াপল্টন: এদিন নয়াপল্টন পরিণত হয় তারুণ্যের সমুদ্রে। ঢাকা ছাড়াও ময়মনসিংহ, সিলেট ও ফরিদপুর বিভাগ থেকে আগত হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকে ভরে যায় পুরো এলাকা। সমাবেশে উত্তেজনা ও আশাবাদের আবহ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন,

 “ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে। অবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।”

তিনি সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “জনগণ আর সময় দেবে না। অবাধ নির্বাচন না হলে দেশের তরুণরা রাজপথেই জবাব দেবে।”

বিজয়ের দ্বিতীয় পর্ব চলছে: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, “আওয়ামী লীগের সময় আমরা যুদ্ধ করেছি, এবার গণতন্ত্র উদ্ধার করবো রাজপথে থেকেই।”
তিনি উল্লেখ করেন, “জুলাই-আগস্টে আমরা প্রথম বিজয় অর্জন করেছি। এখন আমরা দ্বিতীয় বিজয়ের পথে এগিয়ে চলেছি। তরুণ সমাজ আমাদের মূল শক্তি।”

মঈন খান আরও বলেন, “জনগণ গণতন্ত্র চায়। সেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে বিএনপি বারবার সহিংসতা, দমন-পীড়ন আর জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে। এখন আর পিছু হটার সময় নয়।”

বিএনপির বার্তা- নির্বাচনের আগে সহানুভূতি নয়, নিরপেক্ষতা চাই: বিএনপির নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সমাবেশে সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, “যদি নির্বাচন ঠেকাতে ষড়যন্ত্র করে, তাহলে বিএনপির তরুণ কর্মীরা সেটা রাজপথেই প্রতিহত করবে।”

ইন্টারিম সরকার পালিয়ে যাবে: বক্তব্যে ড. মঈন খান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এখনো সময় আছে, নিরপেক্ষ নির্বাচনের উদ্যোগ নিন। তা না হলে বিক্ষুব্ধ তরুণদের আন্দোলনে এই অন্তর্বর্তী সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা সরকারকে সহযোগিতা করেছি, এখনও করছি। কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না হলে সেই সহায়তা আর থাকবে না।”

সমাবেশের আয়োজক ও বক্তারা: বিএনপির তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন—জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল—এ সমাবেশের আয়োজন করে।
সভাপতিত্ব করেন যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না। সঞ্চালনায় ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা—ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বক্তারা সবাই সরকারের প্রতি অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানান এবং দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

তারেকের বার্তা- সরকার চাইলে সমাধান সম্ভব: তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন,

“এই সংকটের সমাধান সরকারের হাতে। তারা চাইলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করে নতুন রোডম্যাপ দিতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সংঘাত চাই না, কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করতেই হবে। দেশের তরুণ প্রজন্ম আজ সোচ্চার, সংগঠিত। ওদের আর ঠেকানো যাবে না।”

ডিজিটাল প্রজন্ম চায় ভোটের অধিকার: সমাবেশে অংশ নেওয়া ছাত্রদলের একজন নেতা বলেন, “আমরা ফেসবুক-ইউটিউবের প্রজন্ম, কিন্তু সেই প্রজন্মেরই ভোটাধিকার নেই। এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
অন্য এক স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী বলেন, “আমরা শুধু স্লোগান দিতে আসিনি, আমরা সরকারকে বিদায় জানাতে প্রস্তুত।”

সরকারের নীরবতা, মাঠে প্রস্তুতি: এদিকে সরকারি পক্ষ থেকে এখনো এই সমাবেশ বা তারেক রহমানের বক্তব্যের বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি ধীরে ধীরে তার হারানো সংগঠনগত শক্তি পুনর্গঠন করছে এবং তারুণ্যের মাধ্যমে রাজপথে ফের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিশ্লেষক মিজানুর রহমান খান বলেন,

“তারেক রহমান লন্ডন থেকে যে বার্তা দিয়েছেন, তা এখন মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের আন্দোলনে পরিণত করার চেষ্টা হচ্ছে। সরকার যদি বাস্তবতা না বুঝে, তাহলে রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।”

এই মহাসমাবেশে বিএনপি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—সময় আর নেই। ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন না হলে পরিণাম ভয়াবহ হবে।
সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

এই অবস্থায় সব পক্ষের জন্যই প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে:
নির্বাচনের পথে কি সমঝোতা সম্ভব, নাকি সংঘাতই নিয়তি?