ঢাকার নিকটবর্তী গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব এলাকা আমিনবাজার। এই অঞ্চলের অধীনে রয়েছে ৪৪টি মৌজা, যার প্রতিটিই জমি সংক্রান্ত সেবা ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্ভর করে আমিনবাজার রাজস্ব সার্কেলের উপর। কিন্তু এখানে চলছে এক ভয়াবহ ঘুষ বাণিজ্য—যার কেন্দ্রে রয়েছেন এসিল্যান্ড মো. বাসিত সাত্তার এবং তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এক দুর্নীতিগ্রস্ত সিন্ডিকেট।
দুর্নীতির কেন্দ্রে ‘ঘুষ সিন্ডিকেট’: এসিল্যান্ড বাসিত সাত্তার আমিনবাজার সার্কেলে যোগদানের পর থেকেই কথিত ভূমি দস্যু জসিম, পলাশ, ড্রাইভার শাইন, সার্ভেয়ার মুনতাজ, নামজারি সহকারী জায়েদ আল রাব্বি এবং দালাল লিমনের সমন্বয়ে গড়ে তোলেন এক অদৃশ্য অথচ ভয়ঙ্কর দপ্তর। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ- ঘুষ না দিলে সেবা পান না কোনো নাগরিকই। ঘুষের পরিমাণ কম হলে, বৈধ কাগজপত্র থাকার পরেও নামজারি বা জমাভাগ মামলা ‘না-মঞ্জুর’ করে দেন এসিল্যান্ড নিজেই।
একটি ঘটনার অনুসন্ধানে ওঠে এলো ভয়াবহ চিত্র: নামজারি মামলা নং ৭৮৩৭-২৪/২৫-এর আবেদনটি ছিল সঠিক কাগজপত্রসহ, যার খতিয়ান নং ৮২৬৯ এবং জমির রেজিস্ট্রেশন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অথচ ঘুষের অংক পছন্দ না হওয়ায় এসিল্যান্ড তা না-মঞ্জুর করেন। একই ধরণের আরেকটি মামলা—সাদাপুর মৌজার ৬৬০২/২৪-২৫—তথাকথিত ঘুষ না দেওয়ার কারণে বাতিল হলেও, পরে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে সেটি অনুমোদন পেয়েছে।
“মিস কেস” মানেই কোটি টাকার বাণিজ্য: ‘মিস কেস’ সেবার নামে প্রতি কেস থেকে ঘুষ আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব কেসে বাদী-বিবাদী হাজির না থাকলেও এসিল্যান্ড পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত দিয়ে দেন। অভিযোগ রয়েছে, যারা টাকা দেয়, তাদের পক্ষেই যায় রায়।
ভূমি অফিস এখন ভূমিদস্যুদের কার্যালয়!: অফিসটি পরিচালিত হচ্ছে সাভার মৌজার একটি হাউজিং এলাকায় ভাড়ায় নেওয়া ভবনে, যেখানে প্রায়শই সংঘর্ষ, গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। জনবিরোধী অবস্থানে থাকা এই অফিসটি সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করেছে আতঙ্ক। আর অফিসের ভেতরে বহিরাগত দালালরা বছরের পর বছর চেয়ারে বসে নিয়ন্ত্রণ করছে সবকিছু। সরকারি লোকবল সংকটের সুযোগে পুরো অফিস তাদের করায়ত্ত।
লিজ বাণিজ্য ও ইটভাটা সিন্ডিকেট: এসিল্যান্ড অফিসের নামে চলছে শত শত বিঘা সরকারি জমি লিজ বাণিজ্য। অবৈধভাবে লিজ নেওয়া জমিতে গড়ে উঠছে বহুতল ভবন। আবার ইটভাটাগুলো থেকে মাসোয়ারা আদায় করে এসিল্যান্ড অফিসের কিছু কর্মকর্তার নির্দেশেই চলে এই কার্যক্রম। হাইকোর্টের নির্দেশে এসব ইটভাটা গুঁড়িয়ে ফেলার সময়, বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও মালিকেরা এসিল্যান্ড বাসিত সাত্তারের পদত্যাগের দাবিতে আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে।
পুরোনো চরিত্র, নতুন সিন্ডিকেটে বেপরোয়া রাব্বি: এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য, নামজারি সহকারী জায়েদ আল রাব্বি, এর আগেও লালবাগে ঘুষবাণিজ্যে জড়িত ছিলেন। নির্বাচনপূর্ব সময় এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগে তার বদলি হয়। কিন্তু আমিনবাজারে এসে তিনি আরও দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠেন। অফিসের তৃতীয় তলায় এসিল্যান্ডের রুমে বসেই চলে অনৈতিক লেনদেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য চাইলে এসিল্যান্ড বাসিত সাত্তার বাংলাদেশ রিপোর্টকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আমি অফিসিয়াল বিষয়ে মন্তব্য করতে পারি না। তবে তিনি জানান, আমিনবাজার সার্কেল থেকে তাকে ক্যান্টনমেন্ট সার্কেলে বদলি করা হয়েছে। আজ রোববারই আমার নতুন কর্মস্থলে যোগদানের কথা।
চলবে…






