মাদারীপুরে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

মাদারীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরের শিবচরে হাসানউজ্জামান প্রিন্স (৪২) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে । গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করলেও ফাঁসির বিষয়টি নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। সোমবার দুপুরে জেলার শিবচর পৌর শহরের ১ নং ওয়ার্ডের গুয়াতলা এলাকার নাসরিন আক্তার মায়ার মালিকানাধীন ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়া বাসা থেকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত প্রিন্স, শিবচর উপজেলার চরশ্যামাইল গ্রামের মৃত হাজী আবুল কাশেম চাঁনমিয়ার ছেলে।

পুলিশও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হাসানউজ্জামান প্রিন্স একসময় প্রবাসে ছিলেন। প্রবাস থেকে এসে শিবচর বাজারে নিজেদের থান কাপড়ের দোকান পরিচালনা করতেন। তবে প্রিন্সের প্রথম স্ত্রী সাথে বিভোর্স হওয়ার পরে একাধিক বিয়ে করলেও স্ত্রীদের সাথে সংসার করা হয়ে ওঠেনি ,কোন না কোন কারণে সংসার ভেঙেছে তার ।

এদিকে তার রোজা নামের ৪ বছরের এক মেয়ে ও রাইয়ান নামে ৮ বছরের এক ছেলে রয়েছে। ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার জন্য গত বছরের ডিসেম্বর মাসে শিবচর পৌর শহরের হাতির বাগান মাঠ সংলগ্ন ভবনের চতুর্থ তলার বাসা ভাড়া নেন। তবে আজ থেকে চার পাঁচ দিন আগে থেকেই ছেলেমেয়েরা দুজনেই তার দাদা বাড়ি চরশ্যামাইল গ্রামে ছিল।

এদিকে প্রতিদিনের মতো কাজের বুয়া রিমু আক্তারও সোমবার বেলা ১২ টার দিকে প্রিন্সের বাসায় আসেন।
এসে দেখেন ভিতর থেকে দরজা লাগানো। তখনই বাড়ির মালিকসহ আশপাশের লোকজনকে তিনি ডেকে আনেন। এবং উপস্থিত সবার সাথে ঘরের ভিতরে গিয়ে দেখেন ফ্যানের সাথে প্রিন্সের লাশ ঝুলে আছে। এরপরে পুলিশ কে খবর দিলে শিবচর থানা পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

মরদেহটি উদ্ধারের সময় দেখা যায় লাশের গলায় একটি টি-শার্ট পেঁচানো, টি-শার্টের উপরে রশি। লাশটির জিহ্বার কোন অংশ বের হয়নি। এছাড়াও বিভিন্ন আলামত দেখে পুলিশের ফাঁসির বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয়।

এ বিষয়ে নিহতের মামা হাজী সাইদুজ্জামান নাসিম বলেন, আমার ভাগিনার তেমন কোন শত্রু ছিল না আমাদের জানা মতে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা এটাও আমরা বলতে পারছি না, তবে আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সঠিক সত্যঘটনায় উদঘাটন হোক।

এ বিষয়ে শিবচর থানার ওসি মোঃ রতন শেখ (পিপিএম) বলেন, গলায় ফাঁসি দেওয়া এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ফাঁসির বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। কেননা ফাঁসির দড়ির ভিতরে আরেকটি টি-শার্ট পেঁচানো ছিল গলায়। বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন। আমরা অধিকতর তদন্ত করছি এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা তদন্ত রিপোর্ট আসলেই পরিষ্কার হবে।’

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

মাদারীপুরে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

মাদারীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ :

সংগৃহীত

মাদারীপুরের শিবচরে হাসানউজ্জামান প্রিন্স (৪২) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে । গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করলেও ফাঁসির বিষয়টি নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। সোমবার দুপুরে জেলার শিবচর পৌর শহরের ১ নং ওয়ার্ডের গুয়াতলা এলাকার নাসরিন আক্তার মায়ার মালিকানাধীন ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়া বাসা থেকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত প্রিন্স, শিবচর উপজেলার চরশ্যামাইল গ্রামের মৃত হাজী আবুল কাশেম চাঁনমিয়ার ছেলে।

পুলিশও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, হাসানউজ্জামান প্রিন্স একসময় প্রবাসে ছিলেন। প্রবাস থেকে এসে শিবচর বাজারে নিজেদের থান কাপড়ের দোকান পরিচালনা করতেন। তবে প্রিন্সের প্রথম স্ত্রী সাথে বিভোর্স হওয়ার পরে একাধিক বিয়ে করলেও স্ত্রীদের সাথে সংসার করা হয়ে ওঠেনি ,কোন না কোন কারণে সংসার ভেঙেছে তার ।

এদিকে তার রোজা নামের ৪ বছরের এক মেয়ে ও রাইয়ান নামে ৮ বছরের এক ছেলে রয়েছে। ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার জন্য গত বছরের ডিসেম্বর মাসে শিবচর পৌর শহরের হাতির বাগান মাঠ সংলগ্ন ভবনের চতুর্থ তলার বাসা ভাড়া নেন। তবে আজ থেকে চার পাঁচ দিন আগে থেকেই ছেলেমেয়েরা দুজনেই তার দাদা বাড়ি চরশ্যামাইল গ্রামে ছিল।

এদিকে প্রতিদিনের মতো কাজের বুয়া রিমু আক্তারও সোমবার বেলা ১২ টার দিকে প্রিন্সের বাসায় আসেন।
এসে দেখেন ভিতর থেকে দরজা লাগানো। তখনই বাড়ির মালিকসহ আশপাশের লোকজনকে তিনি ডেকে আনেন। এবং উপস্থিত সবার সাথে ঘরের ভিতরে গিয়ে দেখেন ফ্যানের সাথে প্রিন্সের লাশ ঝুলে আছে। এরপরে পুলিশ কে খবর দিলে শিবচর থানা পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

মরদেহটি উদ্ধারের সময় দেখা যায় লাশের গলায় একটি টি-শার্ট পেঁচানো, টি-শার্টের উপরে রশি। লাশটির জিহ্বার কোন অংশ বের হয়নি। এছাড়াও বিভিন্ন আলামত দেখে পুলিশের ফাঁসির বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয়।

এ বিষয়ে নিহতের মামা হাজী সাইদুজ্জামান নাসিম বলেন, আমার ভাগিনার তেমন কোন শত্রু ছিল না আমাদের জানা মতে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা এটাও আমরা বলতে পারছি না, তবে আমরা চাই সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সঠিক সত্যঘটনায় উদঘাটন হোক।

এ বিষয়ে শিবচর থানার ওসি মোঃ রতন শেখ (পিপিএম) বলেন, গলায় ফাঁসি দেওয়া এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ফাঁসির বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। কেননা ফাঁসির দড়ির ভিতরে আরেকটি টি-শার্ট পেঁচানো ছিল গলায়। বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন। আমরা অধিকতর তদন্ত করছি এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা তদন্ত রিপোর্ট আসলেই পরিষ্কার হবে।’