বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নেমে আসবে ৩.৩ শতাংশে

বাংলাদেশ রিপোর্ট

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৩ শতাংশে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বুধবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত ‘সাউথ এশিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট: ট্যাক্সিং টাইমস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এই হার পূর্ববর্তী ৪ শতাংশ পূর্বাভাস থেকেও কম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, কারফিউ এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য ধস দেখা গেছে, যা পুরো অর্থবছরের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলবে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৭.৩ শতাংশ, যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ তথ্য স্পষ্ট করে দেয় যে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের আগ্রহ আশানুরূপ নয়। পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগেও স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে, মূলধনী ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় এর গতি মন্থর হয়েছে।

তবে কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে—বিশেষ করে বৈদেশিক খাতে চাপ কিছুটা কমেছে এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি হ্রাস পেয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার বলেন, “গত এক দশকের একাধিক ধাক্কা দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিয়েছে। এখন সময় এসেছে রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে টার্গেটেড রিফর্ম গ্রহণ করার।”

প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার প্রবৃদ্ধির হার হবে যথাক্রমে ৩.১ শতাংশ।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে না পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নেমে আসবে ৩.৩ শতাংশে

বাংলাদেশ রিপোর্ট

প্রকাশ :

সংগৃহীত

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৩ শতাংশে নেমে আসবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বুধবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত ‘সাউথ এশিয়া ডেভেলপমেন্ট আপডেট: ট্যাক্সিং টাইমস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এই হার পূর্ববর্তী ৪ শতাংশ পূর্বাভাস থেকেও কম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, কারফিউ এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কারণে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য ধস দেখা গেছে, যা পুরো অর্থবছরের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলবে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৭.৩ শতাংশ, যা গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ তথ্য স্পষ্ট করে দেয় যে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের আগ্রহ আশানুরূপ নয়। পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগেও স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে, মূলধনী ব্যয় হ্রাস পাওয়ায় এর গতি মন্থর হয়েছে।

তবে কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে—বিশেষ করে বৈদেশিক খাতে চাপ কিছুটা কমেছে এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি হ্রাস পেয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার বলেন, “গত এক দশকের একাধিক ধাক্কা দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিয়েছে। এখন সময় এসেছে রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার, কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং জলবায়ু সহনশীলতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে টার্গেটেড রিফর্ম গ্রহণ করার।”

প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার প্রবৃদ্ধির হার হবে যথাক্রমে ৩.১ শতাংশ।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে না পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।