আগামী জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে  প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত… সারজিস আলম

প্রকাশ :

ছবি: প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ডিসেম্বর -জানুয়ারির মধ্যে বলা হচ্ছে। ৩০০ আসনে  প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এ চ্যালেঞ্জ দিতে আমরা অভ্যস্ত এবং প্রস্তুত রয়েছি। ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়া আমাদের লক্ষ্য এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব বলে জানিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

তিনি বলেন,চোখের সামনে জুলাই-আগস্টে যে রক্তাক্ত নিথর দেহগুলো ছিল সেগুলোকে যদি আমরা সামনে রাখতে পারি তাহলে আমরা এই ২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থানের যে স্পিরিট সেটা থেকে কখনো বিচ্যুত হবো না। আমরা যদি জনগণের জন্য কাজ করতে পারি তাহলে জনগনই তাদের রায় দিয়ে সংসদে নিয়ে যাবে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রংপুর নগরীর কেরামতিয়া জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা জানান।

সারজিস আলম বলেন, আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা ও উপজেলা কমিটি চূড়ান্ত করা হবে।তিনি বলেন, ‘আজকে থেকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছি। এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের কমিটির যে ফরমেশন প্রক্রিয়া সেদিকে চলে যাব। এপ্রিল মাসের মধ্যে জেলা এবং উপজেলা কমিটি গুলো দেখতে পাবেন’।

প্রত্যেকটি জেলা এবং উপজেলায় আমাদের অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছেন। যারা নতুন একটি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে। যারা মনে করে তরুণরা অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়ার দক্ষতা আছে। এই নেতৃত্ব যেমন তরুণ নির্ভর হবে এবং নেতৃত্বে আমাদের অগ্রজরাও অবশ্যই থাকবেন। সামনে এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে তরুণদের সাহস ও উদ্যম যেমন দরকার তেমন অগ্রজদের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা অনেক বেশি প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিগত এক যুগ ধরে রাজনীতি আর গণমানুষের রাজনীতি ছিল না। রাজনীতি ছিল টাকা দিয়ে মনোনয়ন কেনা এবং রাতে আধারে ভোট কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাওয়া। এখন আমরা যখন জনগণের রায়ে বাংলাদেশে নতুন করে নির্বাচনের আশা করছি তখন আমাদের  জনগণের কাছে যেতে হবে। কারণ জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফেরত পাবে। জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে আমরা সংসদে যেতে চাই।  আমরা মাঠে-ঘাটে, অলিতে-গলিতে  ও বাড়িতে জনগণের কাছে যাব। আমরা দেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখি এবং যা করতে চাই, আমাদের যা প্রত্যাশা সেগুলো তুলে ধরতে জনগণের কাছে যাব। এত ত্যাগ ও রক্তের পরে জনগণের চাওয়া কি সেগুলো শুনতে চাই। 

উত্তরাঞ্চলের প্রতি বাজেট বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরে যত বাজেট হয়েছে সেগুলো ছিল অঞ্চলভিত্তিক। লবিং ভিত্তিক বাজেটে এক্ষেত্রে দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। যে যার মত করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লবিং করে বাজেট বরাদ্দ নিজের জায়গায় নিয়ে গেছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই অঞ্চলের মানুষের যতটুকু প্রাপ্য ততটুকু বরাদ্দ রাখবেন আমরা এই আশা করি। অন্তবর্তী সরকারের উপর আমরা সেই আস্থা রাখতে চাই। বাংলাদেশের জন্য আমাদের যতটুকু কন্ট্রিবিউশন এবং উত্তরবঙ্গের মানুষ যতোটুকু প্রাপ্য ততটুকু এখন থেকে যেন আমরা পাই। সেটা যদি হয় তাহলে বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম-মূখ্য সংগঠক আসাদুল্লাহ আল গালিব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির আহবায়ক ইমরান আহমেদ, মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি, সদস্য সচিব রহমত আলী প্রমুখ।

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

আগামী জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে  প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত… সারজিস আলম

প্রকাশ :

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ডিসেম্বর -জানুয়ারির মধ্যে বলা হচ্ছে। ৩০০ আসনে  প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এ চ্যালেঞ্জ দিতে আমরা অভ্যস্ত এবং প্রস্তুত রয়েছি। ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়া আমাদের লক্ষ্য এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব বলে জানিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

তিনি বলেন,চোখের সামনে জুলাই-আগস্টে যে রক্তাক্ত নিথর দেহগুলো ছিল সেগুলোকে যদি আমরা সামনে রাখতে পারি তাহলে আমরা এই ২৪ এর জুলাই অভ্যুত্থানের যে স্পিরিট সেটা থেকে কখনো বিচ্যুত হবো না। আমরা যদি জনগণের জন্য কাজ করতে পারি তাহলে জনগনই তাদের রায় দিয়ে সংসদে নিয়ে যাবে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রংপুর নগরীর কেরামতিয়া জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা জানান।

সারজিস আলম বলেন, আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা ও উপজেলা কমিটি চূড়ান্ত করা হবে।তিনি বলেন, ‘আজকে থেকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করেছি। এক সপ্তাহের মধ্যে আমাদের কমিটির যে ফরমেশন প্রক্রিয়া সেদিকে চলে যাব। এপ্রিল মাসের মধ্যে জেলা এবং উপজেলা কমিটি গুলো দেখতে পাবেন’।

প্রত্যেকটি জেলা এবং উপজেলায় আমাদের অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছেন। যারা নতুন একটি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে। যারা মনে করে তরুণরা অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়ার দক্ষতা আছে। এই নেতৃত্ব যেমন তরুণ নির্ভর হবে এবং নেতৃত্বে আমাদের অগ্রজরাও অবশ্যই থাকবেন। সামনে এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে তরুণদের সাহস ও উদ্যম যেমন দরকার তেমন অগ্রজদের পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা অনেক বেশি প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিগত এক যুগ ধরে রাজনীতি আর গণমানুষের রাজনীতি ছিল না। রাজনীতি ছিল টাকা দিয়ে মনোনয়ন কেনা এবং রাতে আধারে ভোট কারচুপির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাওয়া। এখন আমরা যখন জনগণের রায়ে বাংলাদেশে নতুন করে নির্বাচনের আশা করছি তখন আমাদের  জনগণের কাছে যেতে হবে। কারণ জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফেরত পাবে। জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে আমরা সংসদে যেতে চাই।  আমরা মাঠে-ঘাটে, অলিতে-গলিতে  ও বাড়িতে জনগণের কাছে যাব। আমরা দেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখি এবং যা করতে চাই, আমাদের যা প্রত্যাশা সেগুলো তুলে ধরতে জনগণের কাছে যাব। এত ত্যাগ ও রক্তের পরে জনগণের চাওয়া কি সেগুলো শুনতে চাই। 

উত্তরাঞ্চলের প্রতি বাজেট বৈষম্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরে যত বাজেট হয়েছে সেগুলো ছিল অঞ্চলভিত্তিক। লবিং ভিত্তিক বাজেটে এক্ষেত্রে দক্ষিণাঞ্চল সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। যে যার মত করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লবিং করে বাজেট বরাদ্দ নিজের জায়গায় নিয়ে গেছে। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই অঞ্চলের মানুষের যতটুকু প্রাপ্য ততটুকু বরাদ্দ রাখবেন আমরা এই আশা করি। অন্তবর্তী সরকারের উপর আমরা সেই আস্থা রাখতে চাই। বাংলাদেশের জন্য আমাদের যতটুকু কন্ট্রিবিউশন এবং উত্তরবঙ্গের মানুষ যতোটুকু প্রাপ্য ততটুকু এখন থেকে যেন আমরা পাই। সেটা যদি হয় তাহলে বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম-মূখ্য সংগঠক আসাদুল্লাহ আল গালিব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির আহবায়ক ইমরান আহমেদ, মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি, সদস্য সচিব রহমত আলী প্রমুখ।