চারুকলায় ‘ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি’ মোটিফে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিতদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান।
রমনা বটমূলে পহেলা বৈশাখ ১৪৩২ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রবিবার সকালে তিনি বলেন, “ঘটনাটি আমরা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, যদি নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা নিশ্চিতে র্যাব নানা প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানান তিনি। “আমাদের মোটরসাইকেল ও গাড়ি পেট্রোল থাকবে, চেকপোস্ট, অবজারভেশন টাওয়ার ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা উৎসবকে নিরাপদ রাখতে কাজ করছি।”
তিনি আরও জানান, আজ থেকে অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ব্যান্ড শো দিয়ে। কাল রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠান চলবে, যার মূল আয়োজন রমনা বটমূলে এবং চারুকলার আনন্দ শোভাযাত্রা দিয়ে। এছাড়াও রবীন্দ্র সরোবর, মানিক মিয়া এভিনিউসহ ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হবে।
সাইবার নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে র্যাব ডিজি বলেন, “আমরা সাইবার জগতে নজরদারি করছি, যাতে কোনো গুজব বা অপপ্রচার ছড়াতে না পারে।”
নারী, শিশু ও প্রবীণদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “ইভটিজিং বা হয়রানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছি আমরা।”
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মাথায় দুর্গাপূজা থেকে শুরু করে বিজয় দিবস, বড়দিন, ইংরেজি নববর্ষ, একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, রমজান ও ঈদ—সব উৎসবেই নিরাপত্তা নিশ্চিতে সফলতা এসেছে। একই ধারাবাহিকতায় এবার পহেলা বৈশাখও নির্বিঘ্নে পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
রমনার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, “আমাদের ভেতরে ফুট পেট্রোল, সাদা পোশাকে নজরদারি, বাইরের রাস্তায় মোটরসাইকেল টহল থাকবে। পুরো এলাকা সুইপিং করা হবে, থাকবে ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন।”






