নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছে নতুন নীতিমালা

ট্রাম্প্রপ্রশাসনের দূতদের ঢাকা সফর ঘিরে নানা আলোচনা

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রভাবমুক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ঢাকায় এসেছে প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল। এ দুটি ঘটনাই বলছে, বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক আগ্রহের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।

ইসি চাইছে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের যাচাই-বাছাইয়ের পূর্ণ ক্ষমতা নিজেদের হাতে রাখতে। অতীতে দেখা গেছে, দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব পড়েছে পর্যবেক্ষকদের মনোনয়নে। নতুন নীতিমালার লক্ষ্য—এই প্রভাব দূর করে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়া।

ইসি সূত্র বলছে, আগে যেখানে বিদেশি পর্যবেক্ষক আসতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘নো অবজেকশন’ প্রয়োজন হতো, এখন কমিশন চাইছে, তারা নিজেরাই যাচাই-বাছাই করে সেই সুপারিশ পাঠাবে। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুরনো কাঠামো মূলত থাকলেও যাচাইয়ের দায়ভার ইসির হাতে রাখার চেষ্টা থাকবে।

দেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও আসছে বড় পরিবর্তন। নতুন খসড়া নীতিমালায় সংস্থাগুলোর পটভূমি ও দক্ষতা পুনর্মূল্যায়নের পাশাপাশি শিক্ষা যোগ্যতা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে—যেখানে এসএসসি পাসের পরিবর্তে এইচএসসি পাস বাধ্যতামূলক হতে পারে। কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, “ভুল তথ্য ও অপপ্রচার থেকে কমিশন সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকবে।”

২০০৮ সাল থেকে পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দিয়ে আসছে ইসি। তবে ২০১৮ সালে কিছু সংস্থার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নির্বাচনে ৯৬টি দেশি সংস্থা নিবন্ধিত হয়, যাদের মধ্যে অনেকে স্থানীয়ভাবে ভোট পর্যবেক্ষণ করেছে।

ঢাকায় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম প্রতিনিধি দল: এমন এক সময়ে যখন নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে ঘরোয়া কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই ঢাকায় আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল।

তিন দিনের সফরে আসছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোল চুলিক এবং পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক উপ-সহকারী অ্যান্ড্রু হেরাপ। সফরের মূল বিষয়—বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, রোহিঙ্গা সংকট এবং মিয়ানমারের পরিস্থিতি।

নিকোল চুলিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সিভিল সোসাইটি এবং সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নির্ধারণে আগ্রহী। অন্যদিকে অ্যান্ড্রু হেরাপের সফর মূলত রোহিঙ্গা ও মিয়ানমার ইস্যু কেন্দ্রিক।

ঢাকায় পৌঁছে তারা মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠকের পর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিনে তারা সরকারের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সফরটিকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা—এটি দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির দিক নির্দেশনা হতে পারে। বাংলাদেশ যে এই নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে যাচ্ছে, সেই বার্তাও স্পষ্ট।

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছে নতুন নীতিমালা

ট্রাম্প্রপ্রশাসনের দূতদের ঢাকা সফর ঘিরে নানা আলোচনা

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ :

সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রভাবমুক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ঢাকায় এসেছে প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল। এ দুটি ঘটনাই বলছে, বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক আগ্রহের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।

ইসি চাইছে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের যাচাই-বাছাইয়ের পূর্ণ ক্ষমতা নিজেদের হাতে রাখতে। অতীতে দেখা গেছে, দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব পড়েছে পর্যবেক্ষকদের মনোনয়নে। নতুন নীতিমালার লক্ষ্য—এই প্রভাব দূর করে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়া।

ইসি সূত্র বলছে, আগে যেখানে বিদেশি পর্যবেক্ষক আসতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘নো অবজেকশন’ প্রয়োজন হতো, এখন কমিশন চাইছে, তারা নিজেরাই যাচাই-বাছাই করে সেই সুপারিশ পাঠাবে। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুরনো কাঠামো মূলত থাকলেও যাচাইয়ের দায়ভার ইসির হাতে রাখার চেষ্টা থাকবে।

দেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও আসছে বড় পরিবর্তন। নতুন খসড়া নীতিমালায় সংস্থাগুলোর পটভূমি ও দক্ষতা পুনর্মূল্যায়নের পাশাপাশি শিক্ষা যোগ্যতা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে—যেখানে এসএসসি পাসের পরিবর্তে এইচএসসি পাস বাধ্যতামূলক হতে পারে। কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, “ভুল তথ্য ও অপপ্রচার থেকে কমিশন সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকবে।”

২০০৮ সাল থেকে পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দিয়ে আসছে ইসি। তবে ২০১৮ সালে কিছু সংস্থার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নির্বাচনে ৯৬টি দেশি সংস্থা নিবন্ধিত হয়, যাদের মধ্যে অনেকে স্থানীয়ভাবে ভোট পর্যবেক্ষণ করেছে।

ঢাকায় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম প্রতিনিধি দল: এমন এক সময়ে যখন নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে ঘরোয়া কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখনই ঢাকায় আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল।

তিন দিনের সফরে আসছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোল চুলিক এবং পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক উপ-সহকারী অ্যান্ড্রু হেরাপ। সফরের মূল বিষয়—বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কার, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, রোহিঙ্গা সংকট এবং মিয়ানমারের পরিস্থিতি।

নিকোল চুলিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সিভিল সোসাইটি এবং সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নির্ধারণে আগ্রহী। অন্যদিকে অ্যান্ড্রু হেরাপের সফর মূলত রোহিঙ্গা ও মিয়ানমার ইস্যু কেন্দ্রিক।

ঢাকায় পৌঁছে তারা মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠকের পর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সফরের দ্বিতীয় দিনে তারা সরকারের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

সফরটিকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা—এটি দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির দিক নির্দেশনা হতে পারে। বাংলাদেশ যে এই নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে যাচ্ছে, সেই বার্তাও স্পষ্ট।