প্রথম সিনেমা ‘ন ডরাই’ দিয়েই শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন সুনেরাহ বিনতে কামাল। সুতরাং তার অভিনয় দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ খুব একটা নেই। সে কথার প্রমাণ আবারও দিলেন এই তারকা। ঈদের সিনেমা ‘দাগি’তে এক ঝাঁক তারকার মধ্যে স্বল্প উপস্থিতির চরিত্রে অভিনয় করে আলাদাভাবে নজর কেড়েছেন।
‘দাগি’তে প্রশংসা পাওয়ার বিষয়ে সুনেরাহ বলেন, আমি তো আসলে এই ছবিতে একটি অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছি। তাই ভাবতেই পারিনি এতো ছোট্ট চরিত্রের জন্য এভাবে দর্শক আমাকে নোটিশ করবে, আমার অভিনয় নিয়ে এতো দারুণ দারুণ কথা বলবে। যা হচ্ছে পুরোটাই আনএক্সপেক্টড! আমি এতোটা আশাই করিনি। বেশিই প্রশংসা পাচ্ছি। কাল রাতে তো ফুরফুরে মন নিয়ে ঘুমাতে গেছি। কালকে আমাকে একটি ছেলে ফোন করে রীতিমতো কেঁদেছে। আমি ভাবলাম তার সঙ্গে কোন দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সে বলল, আপু ‘দাগি’তে তুমি এতো ভালো করেছে যে চরিত্রটা মাথা থেকে সরছেই না। আমি এরইমধ্যে দুইবার দেখে ফেলেছি। আবারও দেখবো।
শুধু ওই ছেলেটি নয়, অনেকেই বলছে যে আমার অভিনয় তাদের খুব ভালো লেগেছে। অনেকে মন খারাপ করেছে যে, আমার চরিত্রটি এতো ছোট কেন? কেউ কেউ আবদার করে বলছে, আমাকে যেন ডিরেক্টররা আরও বেশি বেশি কাস্ট করেন।
তাহলে কি সামনে সুনেরাহকে আরও বেশি বেশি ছবিতে দেখা যাবে- এমন প্রশ্নে নায়িকা বলেন, আসলে আমি ভক্তদের আবেগটা অনুভব করতে পারি। কিন্তু আমার হাতে তো সবটা নেই। বেশি বেশি কাজ যে করবো, কিভাবে করবো? আমাদের এখানে তো বেশিরভাগ ভালো নির্মাতারা নিজের কাছের মানুষকে নিয়েই ছবি করছে। ভালো কোন পরিচালক যদি ভালো গল্প আমার কাছে নিয়ে আসে আমি কেন ফেরাবো? যেমন, শিহাব শাহীন ‘দাগি’র প্রস্তাব দিয়েছেন, আমিও মন দিয়ে করেছি কাজটা।
এতো ছোট চরিত্র করতে কি একবাক্যেই রাজী হয়ে গিয়েছিলেন প্রশ্নে সুনেরাহ বলেন, আমাকে যখন পুরো ছবির গল্পটি শুনিয়ে চরিত্রটি করার কথা বলা হয়, তখন আমি একবারের জন্যও দেখিনি যে আমার চরিত্র কতোটুকু, সহশিল্পী কে, প্রধান চরিত্র নাকি পার্শ্ব চরিত্র? কারণ আমি আমার জায়গায় পরিষ্কার। ‘ন ডরাই’তে যেমন আমাকে কেন্দ্র করেই পুরো ছবির গল্প, তেমনি ‘দাগি’তে আমি ছোট্ট চরিত্রে কাজ করেছি। কারণ আমি মনে করেছি এতো সুন্দর একটা গল্প, শিহাব শাহীনের মতো নির্মাতা, আলফা আইয়ের মতো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান- সবমিলিয়ে একটি ভালো ছবি হবে। তাছাড়া তাদেরও আমার মতো একজনকেই দরকার ছিলো, তাই ভাবলাম এই ছবির অংশ হওয়া উচিত। এতে ‘দাগি’ টিমকেও হেল্প করা হবে। এই চিন্তা কিন্তু আমার একার নয়, হলিউডের বড় বড় আর্টিস্টের দিকে খেয়াল করলেও দেখবেন তারা চরিত্রের দৈর্ঘ্য কতোখানি সেটি দেখেন না। চরিত্রটির গুরুত্ব কতোখানি আর চরিত্রটি কতোটা এক্সাইটেড করছে তাকে সেটাই তাদের কাছে মূখ্য।
পরিবারের সদস্যরা ছবিটি দেখে কি বলছে প্রশ্নে অভিনেত্রী বলেন, আম্মুর পা ভেঙে গেছে। এবার পুরো ঈদে কোন হেল্পিং হ্যান্ডও ছিলো না আমার। সবাই ছুটি নিয়ে চলে গেছে। তাই রান্না-বান্না থেকে শুরু করে বাসন মাজা, ঘর গোছানো, কাপড় ধোয়া- সব আমাকেই করতে হয়েছে। এজন্য আমি নিজেই এখনো ‘দাগি’ দেখতে পারিনি! পরিবারের মানুষেরাও দেখতে চেয়েছে, কিন্তু আমাকে টিকিট ম্যানেজ করে দিতে বলে। আমি টিকিট কই পাবো? দেখতে ইচ্ছে করলে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে দেখতে হবে। আর এখন তো টিকিটই পাওয়া যাচ্ছে না ‘দাগি’র। এটা অবশ্য খুবই ভালো খবর। ঈদের সবক’টি ছবিই ভালো চলছে। ছবিটির গল্প শুনেই আমি শিহাব ভাইকে বলেছিলাম, ছবিটি মানুষ দেখতে আসবেই এর গল্পের জন্য। এর কোন প্রচারণা না করলেও দর্শক হলে আসবে। এর বাইরে তো ভালো নির্মাণ, সবার ভালো অভিনয় আছেই, সবমিলিয়ে ‘দাগি’ একটি ফুল প্যাকেজ। ছবিটি আমি ৭ তারিখে দেখবো হয়তো।
‘দাগি’র প্রচারে দেখা না যাওয়ার বিষয়ে নায়িকা বলেন, শুরুর দিকে গিয়েছিলাম তো। ‘দাগি’ নিয়ে আপনাকে যা বললাম সেই কথাগুলোই আমি প্রেস কনফারেন্সেও বলেছি। কিন্তু আমার ইন্টারভিউগুলো কেউ প্রকাশ কেন করেনি সেটাই বুঝে উঠতে পারলাম না! তাহলে আমি কেন এতো ঝামেলার মধ্যেও রেডি হয়ে সেখানে গেলাম? এসব নিয়ে একটু মন খারাপ ছিলো। কারণ, আমি কাজ করি শতভাগ সততার সঙ্গে। ফলে দর্শকের কাছ থেকে সেই পরিশ্রমের মূল্য তো আমার প্রাপ্য। কিন্তু আমি হয়তো চুপচাপ থাকি বলে অনেক সময় নিজের প্রাপ্যটুকু পাই না বা কেউ পেতে দেয় না। কিন্তু যারা যোগ্য তারা কখনো অন্যকে নিয়ে ইনসিকিউরড ফিল করে না। আমি উদাহরণ হিসেবে বিদ্যা সিনহা মিমের নাম বলতে পারি। তার সঙ্গে ‘অন্তর্জাল’ ছবিটি করার অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। আরেকটা কথা, ভালো কাজ হলে দিনশেষে দর্শকের চোখে তা পড়বেই। এজন্যই তো লাস্ট কয়েকদিন দর্শকের অসম্ভব ভালোবাসা পাচ্ছি। আমি এতেই তৃপ্ত।






