গাজীপুরের শ্রীপুরে এক পোশাক শ্রমিকের আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শ্রমিকের সহকর্মীদের শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতির মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে, অন্যদিকে শ্রমিকরাও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে পুলিশ সদস্যও রয়েছে।
নিহত শ্রমিকের নাম জাকির হোসেন। সহকর্মীরা জানান, তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে একদিন কারখানায় যেতে পারেননি। পরদিন তিনি ছুটির আবেদন করেন, কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ তার আবেদন গ্রহণ না করে বরং তাকে নানাভাবে অপমান, অপদস্থ ও মানসিক নির্যাতন করে।
এই অবমাননা সহ্য করতে না পেরে তিনি কারখানার ৮ তলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন। সহকর্মীরা এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কারখানায় শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতি ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের শান্ত করতে সকাল থেকেই কারখানার ধনুয়া এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও হামলা চালায়। এতে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে, পাল্টা হিসেবে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।
সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন, আহতদের মধ্যে শ্রমিক ও পুলিশ উভয় পক্ষের সদস্য রয়েছে। সংঘর্ষে পুলিশের একাধিক যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল বারিক বলেন, “পুলিশ শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু তারা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের উপর আক্রমণ চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়।”
শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে জাকির হোসেনের আত্মহত্যার যথাযথ তদন্ত ও কারখানা কর্তৃপক্ষের বিচার দাবি করা হচ্ছে।
পুলিশের নির্বিচার লাঠিচার্জ ও হামলার বিচার চাওয়া হয়েছে
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে শ্রমিকদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা দেশের শিল্প খাতের এক গভীর সংকটকে সামনে এনে দিয়েছে— শ্রমিকের মানবাধিকার লঙ্ঘন, প্রশাসনের নির্লিপ্ততা এবং কর্তৃপক্ষের নিষ্ঠুরতা।
একজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে ছুটি চাইলে, তাকে অপমান করে এমন পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি, কিন্তু তাদের নিরাপত্তা, সম্মান ও ন্যায্যতা প্রতিনিয়ত উপেক্ষিত হচ্ছে।
স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে আত্মহত্যার কারণ ও দায়ীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা।






