পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুরু হয়েছে ঘরে ফেরার মহাযাত্রা। রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়ছেন হাজারো মানুষ।
সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সময়জুড়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘুরে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মে প্রবেশে যাত্রীদের জন্য তিন স্তরের টিকিট যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপে বাঁশের ব্যারিকেড পেরিয়ে টিকিট প্রদর্শন ছাড়া কেউ ঢুকতে পারছেন না। পরবর্তী ধাপে এবং প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের সময়ও টিকিট আবার যাচাই করা হচ্ছে।
যাত্রাপথ নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে তৎপর। রয়েছে মোবাইল কোর্টও। স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিন সকাল থেকেই স্টেশন ছিল যাত্রীতে ঠাসা। পঞ্চগড়গামী ট্রেনের যাত্রী সাগর বলেন, “সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ট্রেন ছাড়বে। ট্রেন মিস না হয় তাই ২ ঘণ্টা আগেই চলে এসেছি।”
টিকিট না পাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও শেষমেশ স্ট্যান্ডিং টিকিট সংগ্রহ করে সিরাজগঞ্জ যাচ্ছেন মিজানুর রহমান। স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে ঈদ করতে বাড়ি ফিরছেন তিনি। বলেন, “কষ্ট হলেও বাড়ি যাবোই, পরিবার ছাড়া ঈদ ভাবাই যায় না।”
শান্তাহারগামী রংপুর এক্সপ্রেসে পরিবার নিয়ে উঠেছেন রুস্তম। তার কণ্ঠে ছিল দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফেরার আনন্দ। তিনি জানান, “অনলাইনে টিকিট কাটতে কিছুটা সমস্যা হলেও শেষ পর্যন্ত টিকিট পেয়েছি, এটাই বড় কথা।”
ঈশ্বরদীগামী একতা এক্সপ্রেসের যাত্রী মো. মিঠু বলেন, “পরিবার ছাড়া ঈদের আনন্দ হয় না। তাই কষ্ট হলেও বাড়ি যাচ্ছি।”
স্টেশন ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম জানান, “সকাল থেকে কোনো ট্রেন সিডিউল বিপর্যয়ের শিকার হয়নি। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তিন স্তরের টিকিট চেকিং, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল চলছে।”
সকাল পর্যন্ত মোট ১৫টি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। পুরো দিনে ঢাকা থেকে ৬৩টি ট্রেন ছাড়বে বলেও জানান তিনি।






