ইউআইইউ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, রাজধানীর নতুন বাজারে তীব্র যানজট

বাংলাদেশ রিপোর্ট

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

প্রগতি সরণিতে টানা বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়েছে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা নতুন বাজার। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (UIU) ২৬ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ বাতিলসহ পাঁচ দফা দাবিতে শনিবার সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

সকাল ৮টা ১৫ মিনিট থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির ফলে প্রগতি সরণি এবং সংযোগ সড়কগুলোর গতি প্রায় থেমে গেছে। যানজটে নাকাল হয়ে পড়েছেন রামপুরা, কুড়িল, বাড্ডা, গুলশান ও বসুন্ধরা এলাকার যাত্রীরা।

স্লোগানে মুখর বিক্ষোভস্থল

সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা দিচ্ছেন ক্ষোভপূর্ণ স্লোগান:
“পা চাটলে পুরস্কার, না চাটলে বহিষ্কার”,
“হয় বহিষ্কার বাদ যাবে, না হয় আমার লাশ যাবে”,
“অথোরিটি স্বৈরাচার, এবার তোরা গদি ছাড়”

এসব স্লোগানে তাদের দাবির প্রতি গভীর অসন্তোষের প্রতিফলন মিলছে।

আন্দোলনের পেছনের পটভূমি

প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, গত ২৬ এপ্রিল তিন দফা দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছিলেন। পরে প্রশাসন দাবি মেনে নিলেও আন্দোলনের জেরে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্যে চারজনের বহিষ্কারাদেশ পরে প্রত্যাহার করা হলেও বাকিদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিরুত্তর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী, সালমান বারি রিজাল বলেন, “২৬ এপ্রিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আমাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অথচ যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো প্রমাণ কর্তৃপক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমরা আন্দোলন সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, মন্তব্য কিংবা মিম শেয়ার করেছি, এসব স্ক্রিনশট দেখিয়ে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এটাকে প্রশাসন বহিষ্কারের ভিত্তি হিসেবে দেখাচ্ছে। অথচ এটি সরাসরি বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।”

প্রশাসনিক সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের ‘নির্বিকার নীরবতায়’ বাধ্য হয়েই তারা সড়কে অবস্থান কর্মসূচিতে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।

জনদুর্ভোগ চরমে

শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে নয়, তাদের আন্দোলনের প্রভাব পড়ে আশপাশের জনজীবনেও। কর্মজীবী মানুষ, অফিসগামী ও স্কুলগামী শিশু-কিশোরদের ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে।

রাজধানীর গুলশান থেকে মালিবাগগামী এক যাত্রী বলেন, “যে রাস্তায় ১৫ মিনিটে পৌঁছাই, সেটা আজ এক ঘন্টায়ও পার হওয়া যাচ্ছে না। সব দিক থেকে বন্ধ হয়ে গেছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি অনানুষ্ঠানিক বিবরণে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ কখনো কখনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।”

পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তাদের দাবির প্রতি প্রশাসন সাড়া না দিলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে এবং প্রয়োজনে তারা প্রগতি সরণি ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিক্ষোভে নামবে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের বহিষ্কার সিদ্ধান্ত যে কীভাবে রাজপথে জনজীবন বিপর্যস্ত করতে পারে, রাজধানীর নতুন বাজার তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই উত্তেজনার নিষ্পত্তি না হলে শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তিও বাড়তেই থাকবে।

সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শিক্ষা কর্তৃপক্ষ—তিন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় এবং দ্রুত সমাধান না এলে বিষয়টি আরও জটিলতায় গড়াতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

ইউআইইউ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, রাজধানীর নতুন বাজারে তীব্র যানজট

বাংলাদেশ রিপোর্ট

প্রকাশ :

সংগৃহীত

প্রগতি সরণিতে টানা বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়েছে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা নতুন বাজার। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (UIU) ২৬ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ বাতিলসহ পাঁচ দফা দাবিতে শনিবার সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

সকাল ৮টা ১৫ মিনিট থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির ফলে প্রগতি সরণি এবং সংযোগ সড়কগুলোর গতি প্রায় থেমে গেছে। যানজটে নাকাল হয়ে পড়েছেন রামপুরা, কুড়িল, বাড্ডা, গুলশান ও বসুন্ধরা এলাকার যাত্রীরা।

স্লোগানে মুখর বিক্ষোভস্থল

সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা দিচ্ছেন ক্ষোভপূর্ণ স্লোগান:
“পা চাটলে পুরস্কার, না চাটলে বহিষ্কার”,
“হয় বহিষ্কার বাদ যাবে, না হয় আমার লাশ যাবে”,
“অথোরিটি স্বৈরাচার, এবার তোরা গদি ছাড়”

এসব স্লোগানে তাদের দাবির প্রতি গভীর অসন্তোষের প্রতিফলন মিলছে।

আন্দোলনের পেছনের পটভূমি

প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, গত ২৬ এপ্রিল তিন দফা দাবিতে তারা আন্দোলনে নেমেছিলেন। পরে প্রশাসন দাবি মেনে নিলেও আন্দোলনের জেরে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্যে চারজনের বহিষ্কারাদেশ পরে প্রত্যাহার করা হলেও বাকিদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিরুত্তর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী, সালমান বারি রিজাল বলেন, “২৬ এপ্রিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আমাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অথচ যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনো প্রমাণ কর্তৃপক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমরা আন্দোলন সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট, মন্তব্য কিংবা মিম শেয়ার করেছি, এসব স্ক্রিনশট দেখিয়ে আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এটাকে প্রশাসন বহিষ্কারের ভিত্তি হিসেবে দেখাচ্ছে। অথচ এটি সরাসরি বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।”

প্রশাসনিক সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের ‘নির্বিকার নীরবতায়’ বাধ্য হয়েই তারা সড়কে অবস্থান কর্মসূচিতে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।

জনদুর্ভোগ চরমে

শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে নয়, তাদের আন্দোলনের প্রভাব পড়ে আশপাশের জনজীবনেও। কর্মজীবী মানুষ, অফিসগামী ও স্কুলগামী শিশু-কিশোরদের ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে।

রাজধানীর গুলশান থেকে মালিবাগগামী এক যাত্রী বলেন, “যে রাস্তায় ১৫ মিনিটে পৌঁছাই, সেটা আজ এক ঘন্টায়ও পার হওয়া যাচ্ছে না। সব দিক থেকে বন্ধ হয়ে গেছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি অনানুষ্ঠানিক বিবরণে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ কখনো কখনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।”

পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, তাদের দাবির প্রতি প্রশাসন সাড়া না দিলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে এবং প্রয়োজনে তারা প্রগতি সরণি ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিক্ষোভে নামবে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের বহিষ্কার সিদ্ধান্ত যে কীভাবে রাজপথে জনজীবন বিপর্যস্ত করতে পারে, রাজধানীর নতুন বাজার তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই উত্তেজনার নিষ্পত্তি না হলে শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তিও বাড়তেই থাকবে।

সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শিক্ষা কর্তৃপক্ষ—তিন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় এবং দ্রুত সমাধান না এলে বিষয়টি আরও জটিলতায় গড়াতে পারে।