খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্যের পদত্যাগের একদফা দাবি জানিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে কুয়েট স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন তারা।
ঘোষণায় বলা হয়, ভিসি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, প্রতিবাদ দমন করতে হলগুলোর পানি ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করেছেন, বহিষ্কার ও মামলার মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের হয়রানি করছেন। এসব কারণ দেখিয়ে শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি থেকে সরে এসে একমাত্র দাবি হিসেবে ভিসির অপসারণের কথা জানান। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানান তারা।
ঘোষণার পর শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে খান জাহান আলী হলের সামনে এসে তালা ভেঙে প্রবেশ করেন। এরপর একে একে কুয়েটের ছয়টি ছেলেদের হলের তালা খুলে ফেলেন তারা।
এর আগে দুপুর একটার দিকে ক্যাম্পাসের ‘দুর্বার বাংলা’ ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘মেক কুয়েট ফ্রি এগেইন’ কর্মসূচির আওতায় একটি সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে তারা হল খুলে দেওয়ার দাবি তোলেন এবং বহিষ্কৃতদের নাম প্রকাশের আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ভবনের সামনে গিয়ে শিক্ষকদের সহায়তা চান।
এক আন্দোলনকারী প্রথম আলোকে জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদল ও বহিরাগতদের হামলায় প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর বিচারের দাবি জানালে নাটকীয়ভাবে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, “তিন দিন ধরে আমরা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছি। এসব অন্যায় আর সহ্য করা হবে না।”
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সোমবার রাতে সিন্ডিকেট সভায় ৩৭ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার এবং ২ মে হল খুলে দেওয়া ও ৪ মে থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়।
ভিসি অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদ আন্দোলন প্রসঙ্গে বলেন, “আমি শিক্ষার্থীদের কখনো জোর করিনি। তালা ভাঙা বেআইনি, এটা আমি শুধু বলতে পারি। বিষয়টি সিন্ডিকেটে তোলা হবে, সিদ্ধান্ত তারাই নেবে।






