গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের শঙ্কা!

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ :

ছবি: সংগৃহীত

 

৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হতে পারে
গ্রামে ৫-৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন সময়
জ্বালানি সংকটে অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ
অন্তর্বর্তী সরকারের আশ্বাস—সবচেষ্টা চলছে

তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। ফলে গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশজুড়ে বড় পরিসরের লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। রাজধানীতে তুলনামূলকভাবে লোডশেডিং কম হলেও, গ্রামীণ জনপদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) জানিয়েছে, ঈদের সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছিল প্রায় শূন্যের কোটায়। তবে এরপর থেকে নানা কারিগরি ও জ্বালানি সংকটের কারণে লোডশেডিং বেড়েই চলেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মে দৈনিক চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। অথচ উৎপাদন হচ্ছে গড়ে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট। ফলে সম্ভাব্য ঘাটতি প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট।

রংপুরে প্রতিদিন ৫-৭ ঘণ্টা লোডশেডিং: রংপুর বিভাগে বিদ্যুৎ সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নেসকো সূত্রে জানা গেছে, চাহিদা দিনে যেখানে ১১০০ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ মাত্র ৭০০ মেগাওয়াটের মতো। ফলে দিনে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং চলছে। একই অবস্থা ময়মনসিংহ, রাজশাহী, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগেও।

কার্যত অচল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্ধেক: বর্তমানে দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১২,৩৩৩ মেগাওয়াট হলেও গ্যাস সংকটে সেগুলোর অর্ধেকই বন্ধ বা অচল অবস্থায় আছে। দৈনিক প্রয়োজন ২,৪২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, অথচ সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৯০০ মিলিয়নের মতো। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেশনিং চালু রাখতে হচ্ছে।

এছাড়া, ফার্নেস অয়েল, ডিজেল ও কয়লার ঘাটতিও রয়েছে। গ্রীষ্মে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখতে হলে প্রতিদিন ১.৫ লাখ টন ফার্নেস অয়েল ও ৪০ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ উপদেষ্টার বক্তব্য: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, রমজানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভালোভাবে সামাল দেওয়া গেলেও, গ্রীষ্মে চ্যালেঞ্জ ভিন্ন। কুরবানির ঈদে লোডশেডিং কম থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি শহর-গ্রামে সুষমভাবে লোডশেডিং ভাগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

নীতিগত সমালোচনা: জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেছেন, আগের সরকার বিদ্যুৎ খাতে লুণ্ঠনমূলক নীতি গ্রহণ করেছিল। তিনি ডলারে আদানি থেকে বিদ্যুৎ না কিনে কয়লা কিনে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

লোডশেডিংয়ের পেছনে কারণ: জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ ঘাটতি, ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা ও দুর্নীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির অস্থিরতা, অতিরিক্ত চাহিদা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা।

সবমিলিয়ে, সামনের দিনগুলোতে দেশজুড়ে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদগুলো

গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের শঙ্কা!

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ :

সংগৃহীত

 

৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হতে পারে
গ্রামে ৫-৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন সময়
জ্বালানি সংকটে অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ
অন্তর্বর্তী সরকারের আশ্বাস—সবচেষ্টা চলছে

তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। ফলে গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশজুড়ে বড় পরিসরের লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। রাজধানীতে তুলনামূলকভাবে লোডশেডিং কম হলেও, গ্রামীণ জনপদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) জানিয়েছে, ঈদের সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছিল প্রায় শূন্যের কোটায়। তবে এরপর থেকে নানা কারিগরি ও জ্বালানি সংকটের কারণে লোডশেডিং বেড়েই চলেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, চলতি গ্রীষ্মে দৈনিক চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। অথচ উৎপাদন হচ্ছে গড়ে ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট। ফলে সম্ভাব্য ঘাটতি প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট।

রংপুরে প্রতিদিন ৫-৭ ঘণ্টা লোডশেডিং: রংপুর বিভাগে বিদ্যুৎ সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নেসকো সূত্রে জানা গেছে, চাহিদা দিনে যেখানে ১১০০ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ মাত্র ৭০০ মেগাওয়াটের মতো। ফলে দিনে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং চলছে। একই অবস্থা ময়মনসিংহ, রাজশাহী, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগেও।

কার্যত অচল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্ধেক: বর্তমানে দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১২,৩৩৩ মেগাওয়াট হলেও গ্যাস সংকটে সেগুলোর অর্ধেকই বন্ধ বা অচল অবস্থায় আছে। দৈনিক প্রয়োজন ২,৪২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, অথচ সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৯০০ মিলিয়নের মতো। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেশনিং চালু রাখতে হচ্ছে।

এছাড়া, ফার্নেস অয়েল, ডিজেল ও কয়লার ঘাটতিও রয়েছে। গ্রীষ্মে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখতে হলে প্রতিদিন ১.৫ লাখ টন ফার্নেস অয়েল ও ৪০ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ উপদেষ্টার বক্তব্য: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, রমজানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভালোভাবে সামাল দেওয়া গেলেও, গ্রীষ্মে চ্যালেঞ্জ ভিন্ন। কুরবানির ঈদে লোডশেডিং কম থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি শহর-গ্রামে সুষমভাবে লোডশেডিং ভাগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

নীতিগত সমালোচনা: জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেছেন, আগের সরকার বিদ্যুৎ খাতে লুণ্ঠনমূলক নীতি গ্রহণ করেছিল। তিনি ডলারে আদানি থেকে বিদ্যুৎ না কিনে কয়লা কিনে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

লোডশেডিংয়ের পেছনে কারণ: জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, গ্যাস ও কয়লার সরবরাহ ঘাটতি, ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা ও দুর্নীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির অস্থিরতা, অতিরিক্ত চাহিদা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা।

সবমিলিয়ে, সামনের দিনগুলোতে দেশজুড়ে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।