বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়নের ভুয়া অভিযোগ এবং নানা কল্পকাহিনী ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টার অভিযোগ থাকলেও, ভারত নিজেই এখন গুজব, সাম্প্রদায়িক উসকানি ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংঘর্ষের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে পড়ে গেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ আইন সংশোধনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া অশান্তি, সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপির ভেরিফায়েড সামাজিক মাধ্যম পেজ থেকে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর ছবি ছড়িয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে, যার অনেকগুলোই অন্য রাজ্যের পুরনো বিক্ষোভের ছবি। পুলিশ পর্যন্ত স্বীকার করেছে, এসব ছবি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির অপচেষ্টা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
ওয়াকফ আইন সংশোধনের পর রাজ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদেই ৩ জন নিহত হন এবং চলমান চোরাগোপ্তা হামলায় আহত হন অনেকে। ইন্টারনেট সেবা বন্ধসহ মোতায়েন করা হয়েছে আধাসামরিক বাহিনী।
এদিকে, পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করতে সীমান্তের দুষ্কৃতকারীদের সহযোগিতা নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক সহিংসতার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। দলটির দাবি, বিজেপি দেশব্যাপী বিভাজনের কৌশল নিয়ে নির্বাচনের আগে আগুনে ঘি ঢালছে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ এই সংকটের মাঝেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও চাপে রয়েছে মোদি সরকার। বিশেষ করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক এবং যৌথ বিবৃতি ভারতের জন্য বড় ধাক্কা।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের আবর্তে ভারত সবসময়ই বাংলাদেশের ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু জুলাই-আগস্টের গণজাগরণে বাংলাদেশের জনগণ ভারতের আধিপত্যবাদী অবস্থানের বিরুদ্ধে যে ঐক্য গড়ে তুলেছে, তা এখনো মেনে নিতে পারছে না দিল্লি।
মাঠে-ময়দানে ব্যর্থ হয়ে প্রযুক্তি ও সামরিক নজরদারিতে ভর করার প্রবণতা বাড়ছে ভারতের। সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, বসানো হয়েছে থার্মাল ইমেজার, ড্রোন, সিসিটিভি, এমনকি উপগ্রহ পর্যন্ত। ৫২টি সামরিক উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ঘোষণাও এসেছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাইরের দিকে আঙুল তোলার পাশাপাশি এখন নিজ দেশের পরিস্থিতি সামলানোতেই সবচেয়ে বেশি হিমশিম খেতে হচ্ছে ভারতকে। মোদি সরকারের উগ্র জাতীয়তাবাদী অবস্থান ও গুজবনির্ভর রাজনীতি এখন বুমেরাং হয়ে সামনে আসছে।
সাম্প্রদায়িকতা, গুজব ও আধিপত্যবাদী নীতির সমন্বয়ে গঠিত এক ‘অতি খেলার’ পরিণতিতে ভারত এখন নিজেরই তৈরি ফাঁদে আটকে পড়েছে।






