জামালপুরের ইসলামপুরে দেশপ্রেম ও খেলাধুলার চেতনার এক অনন্য সংমিশ্রণ ঘটলো ‘ওরা এগারো জন শহীদ স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর মধ্য দিয়ে। ১১ জুন বিকেলে ইসলামপুর উপজেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত ফাইনাল খেলায় মুখোমুখি হয় ইসলামপুর ফুটবল একাডেমি ও কেন্দুয়া স্পোর্টস একাডেমি। জমজমাট লড়াইয়ে ২-০ ব্যবধানে জয়ী হয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে নেয় কেন্দুয়া স্পোর্টস একাডেমি।
গত ৯ মে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টটির আয়োজন করে ইসলামপুরের ‘ওরা এগারো জন শহীদ স্মৃতি পরিষদ’। মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলামপুরের কুলকান্দি গ্রামের ১১ শহীদকে স্মরণে রেখে নতুন প্রজন্মের মাঝে তাদের আত্মত্যাগের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
খেলার শুরুতে আয়োজনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম খান। তিনি এক আবেগঘন বক্তৃতায় বলেন, “আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ইসলামপুরের কুলকান্দি এলাকার ১১ জন নিরীহ মানুষকে একসাথে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করা হয়েছিল। তাদের এই আত্মত্যাগকে ইতিহাসে যথাযথ মর্যাদায় স্থান দেওয়া উচিত। সারা দুনিয়াকে জানাতে হবে যে ইসলামপুরের কুলকান্দির ১১ জন মানুষ দেশের জন্য একসাথে জীবন দিয়েছিলেন।”
তিনি প্রস্তাব রাখেন ইসলামপুরের কোনো চত্বরকে ‘ওরা এগারো জন শহীদ চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা করার, কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানকে তাঁদের নামে নামকরণ করার। “যাতে করে তারা স্মৃতির মধ্যে বেঁচে থাকেন, আর আমরা তাঁদের ভুলে না যাই,” বলেন নজরুল ইসলাম খান।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ও দলের মিডিয়া সেলের সদস্য ব্যারিস্টার আবু সায়েম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ.এস.এম. আবদুল হালিম, ইসলামপুর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু, মুক্তিযোদ্ধা ও বীর প্রতীক মিজানুর রহমান খান মিঠু, এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফুহাদ রেদুয়ান।
তাদের সাথে ইসলামপুর উপজেলা ও জামালপুর জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সকলে মিলে খেলাটি উপভোগ করেন এবং শহীদদের স্মরণে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক শরিফুল ইসলাম খান ফরহাদ।
তিনি বলেন, “আমরা এই ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে ১১ শহীদের আত্মত্যাগকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছি। পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখাই ছিল এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইসলামপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন।
সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন শফিউল্লাহ বুলবুল, শরিফ উদ্দিন, অপু হাসান, নিশাদ, পল্লব হাসান ও পনির আহম্মেদসহ স্থানীয় সংগঠকরা।
শহীদদের স্মৃতিতে নতুন প্রত্যয়: এই টুর্নামেন্ট শুধু একটি খেলাধুলার আয়োজন ছিল না, বরং ছিল একটি প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে ইতিহাস ও চেতনার উত্তরাধিকার হস্তান্তরের প্রচেষ্টা।
ইসলামপুরের কুলকান্দির ১১ শহীদ যেন হারিয়ে না যান ইতিহাসের পাতায়, বরং খেলাধুলার মতো প্রাণবন্ত আয়োজনে বেঁচে থাকুন মানুষের হৃদয়ে – এই প্রত্যয়েই শেষ হয় স্মরণীয় এই আয়োজন।






