বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেন পরিস্থিতি অকারণে ঘোলাটে না করে, দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের একটি নির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য তারিখ ঘোষণা করে। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা না করা গেলে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
শনিবার (১৭ মে) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে এনডিএম-এর অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, সরকার এখনও পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে গণতান্ত্রিক দলগুলোর আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। বরং ‘কম সংস্কার-বেশি সংস্কার’ ধরনের জটিল ও কৌশলী শর্ত তৈরি করে নির্বাচন প্রশ্নে সিদ্ধান্তকে বিলম্বিত করছে। এর ফলে জনগণ অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে, এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েই চলেছে।
তিনি আরও বলেন, “মাত্র দশ মাসের মাথায় সরকারের ভেতরে ও বাইরে যে অস্থিরতা প্রকাশ পাচ্ছে, তা এই সরকারের দুর্বলতা ও ব্যর্থতারই ইঙ্গিত দেয়। জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হলে এই অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের পক্ষে দুষ্কর হয়ে যাবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তারা এখনও জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি, যা সরকারের দক্ষতা ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। “যেখানে গাজায় হতাহতদের সংখ্যা গুগলেই পাওয়া যায়, সেখানে বাংলাদেশের এমন ঐতিহাসিক আন্দোলনের পরিসংখ্যান এখনো অজানা—এটা উদ্বেগজনক,” বলেন তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, “এনবিআরের সংস্কারে আপত্তি না থাকলেও, সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়ন শুরু করায় রাজস্ব আদায় কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এতে কয়েক হাজার কোটি টাকার ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
তিনি সরকারের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বলেন, “বন্দর বা করিডোর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। এই সরকার আইনি বৈধতা পেলেও রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত নয়।”
অনুষ্ঠানে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, এনডিএম রাজপথের আন্দোলন থেকেই জন্ম নিয়েছে, ড্রয়িং রুম থেকে নয়। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এনডিএম নেতা-কর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনডিএম মহাসচিব মমিনুল আমিন, উচ্চ পরিষদ সদস্য পারভেজ খান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গণঅধিকার পরিষদের নেতা রাশেদ খানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ও বিদেশি অতিথিরা।






